শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৩

পাবনা থেকে হাসনাত আবদুল হাই’কে বলছি

মোশাররফ হোসেন মুসা:
মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে কখনও কখনও নিজের অজান্তে নিজের প্রকৃত রূপ প্রকাশ করে ফেলে। সম্ভবত ব্যক্তিগত রাগ বিরাগের বশবর্তী হয়ে সাবেক আমলা ও কথা সাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাইও একটি গল্পের মাধ্যমে নিজের ভিতরকার প্রকৃত রূপ প্রকাশ করেছেন। তিনি অতীতে সরকারের ব্রাহ্মণরূপী একটি চাকুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এবার ব্রাহ্মণদের পত্রিকা নামে খ্যাত ‘প্রথম আলো’র ১লা বৈশাখ সংখ্যায় ‘টিভি ক্যামেরার সামনে মেয়েটি’ নামক একটি গল্প লিখে আগের মর্যাদায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি উক্ত গল্পে পাবনা থেকে যাওয়া ‘সীমা’ নামে নিম্ন মধ্যবিত্তের একটি মেয়ে ঢাকায় গিয়ে কিভাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করছে তার বর্ণনা দিয়েছেন। লেখক সীমারূপী মেয়ের মাধ্যমে কিছু রাজনৈতিক দলের শহরকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান নির্ভর রাজনীতিকে বুঝাতে গিয়ে প্রকারান্তরে শাহবাগ আন্দোলনের শ্লোগান কন্যাসহ প্রগতিশীল নেতাকর্মীদের চরিত্র হননের চেষ্টা করেছেন। বর্তমান সংকটময় মুহুর্তে গল্পটি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষের অবস্থানকেই শক্তিশালী করবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। গল্পটি সম্পর্কে প্রগতিশীল মহল থেকে ব্যাপক প্রতিবাদ আসায় ইতোমধ্যে ‘লেখক’ ও ‘প্রথম আলো’ ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। গল্পটিতে শাহবাগ, গণজাগরণ মঞ্চ, জাতীয় যাদুঘর, আর্ট ইনস্টিটিউট, শিশুপার্ক শব্দগুলি একাধিকবার স্থান পেয়েছে। সেজন্য বলা যায়, পত্রিকাটি সুদূর প্রসারী উদ্দেশ্য নিয়ে গল্পটি ছেপেছে। পত্রিকাটি এই-ই প্রথম নয়, এর আগেও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে লেখার কারণে একাধিকবার ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। অনেকে বলেছেন- এ গল্পের মাধ্যমে বর্ণচোরা উপাধিপ্রাপ্ত পত্রিকাটির নিরপেক্ষতার পোশাকটি আবারও খসে পড়ল।
লেখক এর আগে ‘ যখন ডিসি ছিলাম’ নামে এক প্রবন্ধে বিশিষ্ট শিল্পী ও গবেষক মুর্তজা বশিরকে হেয় করার চেষ্টা করেছেন। তিনি চট্টগ্রামের ডিসি থাকাকালীন সময়ে মুর্তজা বশিরকে সরকারি ফ্ল্যাট পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎ হওয়ার পরও মুর্তজা বশির না কি সামান্য সৌজন্যও দেখান নি। একই প্রবন্ধে তিনি জনৈক বিভাগীয় কমিশনারের আঞ্চলিক কথন ও একটি ঘরোয়া প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরল উক্তি নিয়েও উপহাস করেছেন। যতদূর জানা যায়, এরশাদের উপজেলা সৃষ্টির পিছনে যে কয়জন আমলার অবদান রয়েছে তার মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি ‘বিকেন্দ্রিকরণ, স্থানীয় সরকার ও সম্পদ আহরণ’ নামক এক গবেষণা গ্রন্থের ভূমিকায় উপজেলাকে কার্যকর করতে সম্পদ আহরণের জন্য কতকগুলো উৎসের কথা বলেছেন। আমি একদিন টেলিফোনে তাঁকে বলার চেষ্টা করি- এভাবে উপজেলাকে কার্যকর করা হলে ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষতি হবে। উপজেলা হলো মধ্যবর্তী স্তর। একই সেবার জন্য জনগণ একাধিক স্তরকে কেন ট্যাক্স দিবে। তিনি উত্তরে বলেন- তাকে যেন জ্ঞান দেওয়ার চেষ্টা না করা হয়। তখন মনে মনে ভেবেছি- স্থানীয় সরকারের বাহুল্য স্তর সম্পর্কে যদি সামান্য জ্ঞান থাকত, তাহলে তিনি এভাবে উপজেলার জন্য ওকালতি করতেন না। এখন গল্পটি পড়ে ধারণা জন্মেছে, তিনি দেশের প্রগতিও বুঝেন না। একজন বোদ্ধা পাঠক তার সম্পর্কে বলেছেন- একজন সুসাহিত্যিক  সরকারি চাকুরিতে বেশি দিন টিকে থাকতে পারেন না , সচিব হওয়া তো বহু পরের কথা । বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের পুরোধা কাজী আবদুল ওদুদ বহু আগেই বলেছেন- ‘যা আছে শুধু তা-ই সত্য নয়, যা হওয়া উচিত তা-ই মানুষের জন্য বিশেষভাবে সত্য।’ একইভাবে ‘প্রগতির জন্য যা হওয়া উচিত’ দাবিগুলি কোথা থেকে এলো, কার মুখ থেকে বের হলো, সেটা বড় কথা নয়। দাবিগুলো যথার্থ কি না সেটাই বিচার্য বিষয়। সে সঙ্গে আরও মনে রাখা দরকার- সীমাদের অসহায় অবস্থার জন্য কেবল রাজনীতিবিদরাই দায়ী নন, তার মতো আমলারাও দায়ী।
লেখক ঃ
গণতন্ত্রায়ন ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ক গবেষক।
ঈশ্বরদী, পাবনা।
সেল ঃ ০১৭১২-৬৩৮৬৮২

শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১৩

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এর দু’টি কবিতা

## ঝড়কে আমি করিনা ভয়-

ঝড়কে আমি করিনা ভয়-
কী আছে আমার?
কিইবা ধ্বংস হবে?

ভয় নেই কিছু ধ্বসে পড়ার
ভয় নেই কিছু উড়ে যাবার

বিরাণ পৃথিবী আমার,
বিরাণ বাড়ি-ঘর।
কাঁপাতে পারে না মন
কোন বৈশাখী ঝড়।

## আমি আজ আর প্রেমের কবিতা লিখিনা

আমি আজ আর প্রেমের কবিতা লিখিনা।
বিদ্রোহ গর্জে উঠেছে মনে,
অন্তরে অতৃপ্তি নিয়ে ভালোবাসা যায় কি কিছু?

ক্ষিপ্ততার অগ্নুৎপাতে ছাড়খাড় হয়ে গেছে প্রেম
জাগতিক স্বার্থপরতা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে মানবতা।
যেখানে এখনো ‘মানুষ মানুষের জন্য’
হতে পারেনি আলোর দিশারী
অন্ধকারে হাতড়ে চলে আমার প্রিয় স্বদেশ
স্বার্থান্বেষী ধর্মান্ধতা আর পোয়াবারো রাজনীতি
ঝরায় প্রতিনিয়ত রক্তধারা।

সেখানে প্রেমের কবিতা চুলায় যাকÑ
প্রেমিকারা সব মুখ লুকাক আড়ালে
এবার হবে দ্রোহের গান,
জেগে উঠুক ভয়হীন মৃত্যুহীন প্রাণ।

অস্ত্রের মতো শাণিত হোক সোনার দোয়াত
ক্লিক ক্লিক শব্দে জন্ম হোক ফটোগ্রাফÑ
যেখানে নেই কোন প্রেমিকার মুখ
যেখানে নেই যুগলবন্দী স্মৃতির আঁচড়।

কবিতার মঞ্চে এখন প্রিয়তমার স্তুতি ভালো লাগেনা
ফ্যাকাশে হয়ে আসে সকল আবেগ,
গর্জে ওঠে ফুসে ওঠে আর্ত শব্দাবলীÑ
কন্ঠে উচ্চারিত হয় দ্রোহের ভাষণ,
‘অজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই’ কিংবা
‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা...’
হয়ে ওঠে আরাধনার প্রথম পাঠ।

বি:দ্র: বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাদারীপুরে অনুষ্ঠিত আবৃত্তি উৎসব থেকে  ফিরে।

আর পারছি না

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

আর পারছি না- দৃশ্যগুলো দেখার মত না।
সারি সারি মৃতদেহ দেখেÑ চোখ জ্বালা করে ওঠে।

আর কত লাশের মিছিল। এ দেশ কী মৃত্যু উপত্যাকা?
মানতে পারি না- তবুও মানতে হয়।
কাঁদতে পারি না- তবুও কাঁদতে হয়।
মুখে ভাষা নেই- নির্বাক তাকিয়ে রই।

এ কেমন ট্র্যাজেডি জাতির ঘারে?
এ বোঝা হালকা হবার নয়।
এ কেমন বেঁচে থাকার প্রত্যয়?
কাফনের শিয়রে দাঁড়িয়ে এ কেমন স্বান্তনা?
আর পারছি না- আর পারছি না- আর পারছি না।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ
কালকিনি, মাদারীপুর
২৬ এপ্রিল ২০১৩

শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৩

কালকিনিতে জেজেডি ফ্রেন্ডস ফোরামের বর্ষবরণ


সালাহ উদ্দিন মাহমুদ:
‘আইলো আইলো আইলোরে, রঙ্গে ভরা বৈশাখ আমার আইলোরে’- স্লোগানকে সামনে রেখে শুভ নববর্ষ ১৪২০ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে যায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরাম কালকিনির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনে শোভাযাত্রা, বাঙলার চিরায়ত ঐতিহ্য পান্তা-ইলিশ ভোজন, আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রেসক্লাব চত্বর থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
যায়যায়দিনের কালকিনি প্রতিনিধি মোঃ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে জাহিদ হাসানের সঞ্চালনে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফজলে আজিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায়, কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের সমাজ কর্ম বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, কবি ও কথাসাহিত্যিক আকন মোশাররফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা সরদার লোকমান হোসেন ও মসিউর রহমান সবুজ। বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান, খায়রুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামীম হোসাইন। সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি করেন জাহিন, জাবির, মীম, রাইসা, ফারিহা ও সালাহ উদ্দিন মাহমুদ। সংগীত পরিবেশন করে মানসী. আসমাউল ইসলাম, রাফিয়া, শফিউল, সিফাত, ফাহিম ও মুহিত। নৃত্য পরিবেশন করে রাফিয়া ও সায়মা। সবশেষে শিল্পীদের মাঝে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ,
যুগ্ম আহ্বায়ক, ফ্রেন্ডস ফোরাম
কালকিনি।
০১৭২৫৪৩০৭৬৩


কালকিনিতে ‘বৈচাপাগল’ মঞ্চস্থ

অপর্ণা দাস :
‘দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির সাথে মেল বন্ধন’- শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী, মাদারীপুরের ব্যবস্থাপনায় কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের পরিবেশনায় সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এর রচনায় আ জ ম কামালের নির্দেশনায় স্বপ্ন ও দ্রোহের নাটক কেন্দ্রীক প্রযোজনা ‘বৈচাপাগল’ মঞ্চস্থ হয়।
গত ১৬ এপ্রিল সোমবার রাত ৯ টায় কালকিনি উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বৈশাখী মেলা মঞ্চে নাটকে অভিনয় করেন সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, বি এ কে মামুন, নাহিদুল ইসলাম মুকুল, শান্ত কুমার, সঞ্জীব তালুকদার, সাইফুল ইসলাম, আহসান হাবীব, পলাশ হোসেন, মাহমুদা খানম, ঝুমা আক্তার, শাকিলা আক্তার, অপর্ণা দাস, নিপা, রোমানা, সজল নন্দী ও সাকিব মাহমুদ।

বুধবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৩

মাদারীপুরে স্বপ্ন ও দ্রোহের নাটক ‘বৈচাপাগল’ মঞ্চস্থ

মারজিয়া নিশি:
‘দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির সাথে মেল বন্ধন’- শীর্ষক কর্মসূচীর আওতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমী, মাদারীপুরের ব্যবস্থাপনায় কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের পরিবেশনায় সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এর রচনায় আ জ ম কামালের নির্দেশনায় স্বপ্ন ও দ্রোহের নাটক কেন্দ্রীক প্রযোজনা ‘বৈচাপাগল’ গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় মাদারীপুর মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয়।

শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৩

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ-এর কবিতা

# উত্তরাধিকার

এ কেমন আচানক বিষণœ দুপুর, পাখির ডানার ভাঁজে ভাঁজে উড়ন্ত মেঘ।
আলো আঁধারির লুকোচুরি, ফিকে হয়ে আসে দিগন্তের হাসি।
কুয়াশার আড়ালে উঁকি মারেÑ প্রিয়তমার ফ্যাকাশে মুখ।
এ কেমন কর্মহীন অলস দুপুর, রমনীর শরীরের ভাঁজে ভাঁজে সুখ।
শৃংগারে শিৎকারে কাতরতা, ভাবি প্রজন্মের প্রত্যাশিত আলো।
সঙ্গমের আড়ালে উঁকি মারেÑ আগামীর সুযোগ্য উত্তরাধিকার।

# তোমার স্বপ্ন ঘুমিয়ে আছে

তুমি বললে, আমার কোন স্বপ্ন নেই। আমি শুনে খুশি হলাম-
আশ্চার্যান্বিতও বটে। স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচে?
অবুঝ শিশু, অন্ধ-বোবা সবার যদি স্বপ্ন থাকে
তোমার কেন থাকতে নেই।
তুমিতো পরিপূর্ণ মানবীÑ কোন জড় পদার্থ নও।

সমীকরণটা কেমন এলোমেলো কোন সুত্রেই ঠিক মিলল না।
স্বপ্ন আছে বলে আমরা আছি, আমারা থাকলে স্বপ্নও থাকবে।
তুমি না চাইলেও ঘুরে ফিরে স্বপ্ন আসবে তোমার কাছে।
তোমাকে পথ দেখাবে, ঘুম পাড়ানি গান শোনাবেÑ
নিয়ে যাবে সীমাহীন গন্তব্যে।

একদিন তুমি স্বপ্নের দেখা পাবে, হবে স্বপ্নের সাথে খুনসুটি।
স্বপ্নের সাথে হবে ঘর-গেরস্থালি, প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
এখনো তোমার বুঝতে বাকি- তোমার স্বপ্ন ঘুমিয়ে আছে তোমার মনের গহীণে।

কালকিনি, মাদারীপুর
০৭ এপ্রিল ২০১৩
০১৭২৫৪৩০৭৬৩

বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৩

শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার কৃতি সন্তান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও দহন(সাহিত্যপত্র)- এর নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ হাসান বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় নির্বাহী সংসদের সদস্য হওয়ায় কালকিনিবাসীর পক্ষ থেকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

শুভেচ্ছান্তেÑ
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ
সম্পাদক, দহন(সাহিত্যপত্র)।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ-এর প্রেমের কবিতা

১. তোমাকে দিলাম

তোমাকে দিলাম ভালোবাসার প্রথম প্রহর-
ভোরের শিশির একখন্ড আকাশ।
তোমাকে দিলাম ফাগুনের রঙ- দখিনা বাতাস।
তোমাকে দিলাম সবটুকু অনুভূতি- জীবনের কিছু স্মৃতি।

তোমাকে দিলাম ডাহুকের লুকোচুরি,
মাছরাঙার শিকার স্বচ্ছ কালোজল দিঘির।
তোমাকে দিলাম সবটুকু আবেগ- জীবনের গতিবেগ।
তোমাকে দিলাম আকাশের নীল- সাগরের শঙ্খচিল।
তোমাকে দিলাম এই আমি সবটুকু প্রেম আমার
অনাকাক্সিক্ষত ছোঁয়া উষ্ণতার।

২. অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা

একটি সুদৃশ্য মোড়ক আমায় বিহ্বল করে।
কি আছে এর অন্তর্নিহিত সারমর্ম?
প্রশ্নের পাহাড় বুকে নিয়ে ঝুকে পড়িÑ
প্রতিটি ভাঁজ খুলতে খুলতে আমি ক্লান্ত।
কাক্সিক্ষত বস্তুর কোন গন্ধ নেই।
মনে কল্পনার নানাবিধ জাল বুনি!
মোড়কের ভেতর মোড়কÑÑ
এক  
দুই   
তিন...
চতুর্দশ মোড়ক খুলতেই
বাতাসে উড়ে যায় ছোট্ট চিরকুট।
তাতে লেখাÑ
‘বাতাসে উড়িয়ে দিলাম আমার প্রথম ভালোবাসা।’


৩. কোথাও পাবি না খুঁজে প্রেম

তাকিয়ে দেখ জীবনের যত ছবি
খুঁজে পাবি হাজার রঙ,
জীবনের অলি-গলি পার হয়ে
সেজেছিস কতবার সঙ।

লাল-নীল-বেগুনি কিংবা হলুদ
স্বপ্নের রঙ শাদা-কালো,
রঙিন ছবির মাঝে জীবনের আড়ালে
কোথাও পাবি না খুঁজে আলো।

চেয়ে চেয়ে দেখ কত ঝরা ফুল
পেতে পারিস কত গন্ধ,
কোথাও পাবি না খুঁজে প্রেম
হলে চোখ থাকতে অন্ধ।

কালকিনি, মাদারীপুর
০৩ এপ্রিল ২০১৩

মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৩

গান গেয়ে সংসারের খরচ জোগান

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ:
‘এক সময় পালাগান গাইতাম। এহোন আর পালাগানের চল নাই। তাই জারিগান বান্ধি। এতেই সংসার চলে। মাঝে মাঝে সংসারে একটু-আধটু টানাটানি হয়। কি করুম? বোঝার পর থিক্যাই গানরে সঙ্গী কইরা লইছি। আর ছাড়তে পারি নাই। চার পোলারে দলে রাখছি। বাপ-বেটারা মিইল্যা দল চালাই। আমার সুখ তাতেই। বাউল সম্রাট শাহ আ: করিমের মত কইতে অয়- ‘আর কিছু চাইনা মনে গান ছাড়া।’ কথাগুলো বলছিলেন গ্রামবাংলার চিরায়ত ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক আ: সাত্তার বয়াতী। তার পরিবারের সবাই শিল্পী। সংগীত তাদের একমাত্র আয়ের উৎস। গান গেয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। বিশাল এ পরিবারের ভরন-পোষণ জোগান তারা গানে গানে।
এক সময় গ্রামবাংলায় পালাগান, সারি গান, পুঁথি পাঠ, যাত্রাপালা ও জারি গান ছিল অহরহ। সে সব গ্রামীণ সংস্কৃতি এখন বহুলাংশে লোপ পেয়েছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে শিল্পীরা ছুটছে দিগি¦দিক। কিন্তু মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করা আঃ সাত্তার বয়াতি তার পুরো পরিবার নিয়ে ধরে রেখেছেন সেই ঐতিহ্য। কেবল গান গেয়েই সংসারের খরচ জোগান তারা।
আঃ সাত্তার বয়াতী এনায়েতনগর জে.এম উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। অর্থাভাবে আর লেখা-পড়ার সুযোগ হয়নি তার। ছোট বেলা থেকেই গানের প্রতি তার ঝোক ছিল। তাই পেশা হিসেবে বেছে নেন সংগীত। ১৯৬৫ সালে ২০ বছর বয়সে ওস্তাদ জালাল বয়াতির সাথে সারি গানের মাধ্যমে সংগীত জীবনে প্রবেশ করেন। তার সাথে কাজ করেন ৫ বছর। এরপর নিজেই একটি গানের দল তৈরি করেন। তার দলের নাম রাখেন ‘পল্লী কবিয়াল সাংস্কৃতিক দল’। শুরুর দিকে পালাগান করতেন। তখন শরীয়ত-মারেফাত, নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলিম, রাত্রি-দিনসহ একাধিক পালাগান গেয়েছেন। প্রতিপক্ষ হিসাবে থাকতেন জালাল বয়াতি. সফিজদ্দিন বয়াতী, রশিদ বয়াতী, জয়নাল বয়াতী, মঞ্জুরানী সরকার, রেখা বয়াতী, রুনা সরকার ও মাকসুদা বয়াতী।
পালাগানের কদর কমে গেলে অনেক শিল্পী দল ছেড়ে চলে যান। আঃ সত্তার বয়াতী শুরু করেন জারি গান। নিজের সন্তানদের শিক্ষা দিয়ে টিকিয়ে রাখেন গানের দল। এরপর থেকে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, এনজিও ও ব্যক্তির উদ্যোগে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, দুর্নীতি, বৃক্ষ রোপন বা বনায়ণ, কৃষি, মৎস্য, এইডস, মাদক, দেশাত্মবোধক ও বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির নির্বাচনী জারী গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে থাকেন।
দলের বর্তমান শিল্পীরা তার পরিবারের সদস্য। চার ছেলে ও মেয়ের ঘরের নাতিকে নিয়ে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৬ জন। বড় ছেলে জামাল হোসেন হারমোনিয়াম বাদক এবং গায়ক। মেজ ছেলে রুবেল গান গাইতো। তিন বছর আগে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। স্ত্রী, ২ মেয়ে, ১ ছেলের দায়ভার এখন আঃ সত্তার বয়াতীর ওপর। সেজ ছেলে আক্তার হোসেন ঢোল বাদক। চার নম্বর ছেলে সুজন বাজায় মন্দিরা। ছোট ছেলে আকাশ দেওয়ান শিশুশিল্পী। মেয়ের ঘরের নাতি পান্নাও তাদের দলের শিশুশিল্পী।
তারা এ পর্য়ন্ত ঢাকা, ঝালকাঠি, বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, খুলনা ও ভোলাসহ অনেক জেলা ঘুরে ঘুরে গান গেয়েছেন। প্রতিমাসে ৭-৮ টা জারি গানের অনুষ্ঠান করেন। প্রতি অনুষ্ঠানে সর্বনিু ২২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত পান। এছাড়া দুঃস্থ শিল্পী হিসাবে সরকারের কাছ থেকে একবছরে প্রতিমাসে ৭০০ টাকা করে ভাতা পেয়েছেন। বর্তমানে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে ভাতা পান। এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, কালকিনি এডিপি’র তালিকাভূক্ত গানের দল হিসাবে মাসে চারটা অনুষ্ঠান করে প্রতি অনুষ্ঠানে ২২০০ টাকা করে মোট ৮৮০০ টাকা পান। 
গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহের ব্যাপারে আঃ সাত্তার বয়াতী বলেন,‘এরশাদের আমলে গানের জন্য সাটিভেট (সার্টিফিকেট) পাইছি। বর্তমানে কিছুটা দুরবস্থার মধ্যে আছি। অনুষ্ঠান না পাইলে সংসার চালাইতে একটু কষ্ট হয়। গান গাইয়া ছেলেগো ব্যবসা করার ব্যবস্থা কইরা দিতাছি। তবে আমার জীবন-মরণ গান। যতদিন আছি, গান লইয়াই আছি। মইরা গেলে পোলাপানে দল চালাইবো কি না জানিনা।’

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, কালকিনি
১৩.০৩.২০১৩

রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৩

রচয়িতা: দুই বাংলার কবিদের মিলনমেলা

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

ষান্মাসিক সাহিত্য পত্রিকা ‘রচয়িতা’ ৩য় বর্ষের ২য় সংখ্যা প্রকাশিত হলো ঢাকার একুশে বইমেলায়। ‘দুই বাংলার কবি ও কবিতা’ নিয়ে ৫০ পৃষ্ঠার মনভুলানো এ আয়োজন নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এ সফলতা ‘রচয়িতা’র নিপূণ কারিগর আরিফুল ইসলামের। কবিরা উপলক্ষ মাত্র। কারণ কবিরা কেবল জন্মদাতা, সম্পাদক গর্ভধারিনী। গর্ভধারণের যন্ত্রণা ও প্রসবের বেদনা আমরা বুঝিনা। আমাদের মুখে শুধু তৃপ্তির হাসি। প্রচ্ছদ এঁকে শ্রীবৃদ্ধি ঘটিয়েছেন এম. আসলাম লিটন। অশেষ ধন্যবাদ জানাই তাকে।
বর্তমান অবক্ষয়িত যুব সমাজের জন্য আলোকবর্তিকা হাতে আবির্ভূত হয়েছেন আরিফুল ইসলাম। ‘সাহিত্য পরিবার গঠনের দৃঢ় অঙ্গিকার’ নিয়ে কন্টকাকীর্ণ পথে হেঁটে চলেছেন ক্লান্তিহীন এক পথিক। তার কাফেলায় সামিল হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে আজ। নবীন-প্রবীণ কবিদের সমন্বয়ে সাজানো ‘রচয়িতা’ সর্বস্তরের পাঠকের মনে দাগ কাটতে পেরেছেÑ এ আমার বিশ্বাস। শুধু তা-ই নয়, ‘রচয়িতা’ জামালপুরের ইসলামপুর থেকে ছড়িয়ে পড়বে সারা বাংলাদেশ এমনকি ওপার বাংলায়। লিটল ম্যাগ প্রকাশ, প্রচার ও প্রসারের আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবেÑ এটাই আমার প্রত্যাশা।
নবীন কবিদের লেখালেখির সুতিকাগার ছোট কাগজ। প্রবীন বা প্রথিতযশা কবিদের পাশাপাশি নবীনরাও তাদের কাঁচা হাতের আঁকিবুকির প্রয়াস অব্যাহত রাখবে। তবেই আমাদের বাংলা সাহিত্য আরো সমৃদ্ধ হবে। কেননা, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে সবকিছু এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। দুই হাতে লিখতে পারি। বাতাসে উড়িয়ে দিতে পারি যা কিছু তা-ই। মুহূর্তেই তা পৌঁছে যাচ্ছে সঠিক গন্তব্যে। সবকিছুই যখন হয়ে উঠেছে যান্ত্রিক। তখন আমরা কেনইবা থাকবো স্থবির হয়ে।
‘রচয়িতা’ হাতে পাওয়ার পর আমি বিস্মিত অভিভূত। মফন্বলে বসেও এমন চমৎকার সৃজন সম্ভব। সাহিত্য চর্চা এখন কেবল নগরকেন্দ্রিক নয়। একথাই প্রমাণ করে ‘রচয়িতা’। কবিতা বাছাই, সম্পাদনা, প্রকাশ ও বিপণনের ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন সম্পাদক। ওপার বাংলার পাঠকরাও আগরতলা বইমেলায় রচয়িতার মুখ দেখেছেন। ১৩০ জন কবির পাঠানো কবিতার মধ্যে মাত্র বিয়াল্লিশ জন কবির কবিতা বাছাই করা আসলেই কষ্টসাধ্য। বিশাল এ দায়িত্ব তিনি সামলেছেন প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে। কায়মনো বাক্যে অপারগতাও প্রকাশ করেছেন। বাকী লেখা আগামী সংখ্যায় প্রকাশ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। হয়তো আগামী সংখ্যার জন্য আরো কবিতা জমা পড়বে। এভাবে পড়তেই থাকবে। দায়বদ্ধতা থেকে যাবে কবিদের কাছে। তবুও এগিয়ে যেতে হবে।
আরিফুল ইসলামের সম্পাদকীয় পড়ে মনে হয়েছে কবিতার বিপ্লব শুরু হয়েছে। বিস্ফোরক বারুদ স্পি­ন্টারের মত দিগি¦দিক কবিতার বিস্ফোরণ। প্রতিশ্র“তিশীল কবিদের উদাত্ত আহ্বান- কবিতার ভূবনে আসার। একটি সুন্দর আগামী বিনির্মাণেও প্রত্যয়দীপ্ত কন্ঠস্বর অনুরণন তুলছে চারিদিকে। কাঁটাতারের বেড়াকে উপেক্ষা করে এপার বাংলা-ওপার বাংলার কবিদের মিলন মেলার আয়োজক ‘রচয়িতা’। তাই অবলীলায় বলা যায়, ‘কবিতা কোন বাধাকে স্বীকার করে না, কবিতা সশস্ত্র কবিতা স্বাধীন।’
মৃণাল বসু চৌধুরী, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, জ্যোতির্ময় দাশ, মধুমঙ্গল বিশ্বাস, ইন্দ্রানী সেনগুপ্তা, চিরঞ্জিব হালদার, মনোজিৎ কুমার দাশ, শিবশংকর পাল, সুবীর সরকার, রহমান হেনরী, নজরুল জাহান, টোকন ঠাকুর, ধ্র“বজ্যোতি ঘোষ মুকুল, গোলাম মোস্তফা, কচি রেজা, রতœাদিপা দে ঘোষ, ড. আফরোজা পারভীন, ওয়াহিদুজ্জামান, আলী ইদ্রিস, ভোলা দেবনাথ, তালাত মাহমুদ, আমজাদ সুজন, অমিতাভ দাশ, রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ, আদিত্য অনিক, সুচেতা রায়, অনুপম মুখোপাধ্যায়, সুরঞ্জন রায়, আজিজ আহমেদ, ফয়সাল অভি, সৈকত আহমেদ বেল্লাল, রিপন ঘোষ, নাজমুল হাসান, সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, অঞ্জন আচার্য, মৌ সেনগুপ্তা, সীমা রানী বন্দ্য, সৈয়দ সাদী, চঞ্চল মেহমুদ কাসেম, সুমন হাফিজ, সামীর রহমান ও আরিফুল ইসলামের কবিতা নি:সন্দেহে পাঠককে আকৃষ্ট করেছে। অনেকে অনেক ফোন পেয়েছেন। যেমন পেয়েছি আমি। কবি ও কবিতার স্বার্থকতা এখানেই।
ধন্য রচয়িতা, ধন্য আরিফুল ইসলাম।
কবিতার জয় হোক। ‘রচয়িতা’ দীর্ঘজীবি হোক।

কালকিনি, মাদারীপুর।
৩০.০৩.২০১৩

বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৩

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ-এর দু’টি কবিতা

ঈশ্বরের সাথে শেষ হিসাব-নিকাশ

যা কিছু চেয়েছিলাম; হয়তো পেয়েছি বা পাইনি।
অদূরে দাঁড়িয়ে হাতছানি দেয় সৌভাগ্য,
হতাশার সমুদ্র পেরিয়ে পৌঁছে গেছি ঈশ্বরের মনোনীত স্বপ্নচূড়া দ্বীপে।

কী আছে অজানা জনারণ্যেÑ যাবতীয় প্রেম, প্রেমের অসুখ
উচাটন মন, মনের দূরত্ব। কিংবা সাফল্যের শেষ উপাদান হাতড়ে হাতড়ে
ঈশ্বরের তীক্ষè দৃষ্টিতে রমণীর কামনার সুরসুরির নিষেধাজ্ঞা
উপেক্ষা করে ছিটকে পড়েছি ভাগাড়ে।

ঈশ্বরের সাথে শেষ হিসাব-নিকাশ চুকাতে গিয়ে বারবার ঠকেছি।
জিতেছেন ঈশ্বর; ঈশ্বরেরা বরাবরই জয়ী হন-
জয়ী হবার বদলে আমাকেই ক্ষমা চাইতে হয়।
এবার আমার হিসাবের পালা শেষ,     স্বার্থপর ঈশ্বরের সাথে কোন আপোষ নেই।
কড়ায়-গন্ডায় কষে নেব সব হিসাব-নিকাশ। আমার জয়ের হিসাব,
আমার প্রেমের হিসাব, আমার সীমাহীন প্রাপ্তীর হিসাব।

ঈশ্বরেরর সাথে এ আমার শেষ হিসাব-নিকাশ।

ঈশ্বর বনাম তুমি

তোমাকে ভালোবাসি বহু বছর বহু কাল,
ঈশ্বরের মতো ভালোবাসি তোমাকে।
তোমাকে না পেলে হারাবো ঈশ্বর-
ঈশ্বরকে না পেলে তোমাকেও পাবো না।
তোমার মাঝে খুঁজে পাই নিজের অস্তিত্ব,
তোমার মাঝে ঈশ্বরের বসবাস।
তোমার ঠোটে ঈশ্বরের আনন্দের হাসি,
তোমার চোখে ঈশ্বরের বেদনার জল।
আমার ভালোবাসা শুধু দু’জনার জন্যÑ
ঈশ্বর বনাম তুমি। হয়ত তুমি গ্রহণ কর;
নয়ত ঈশ্বরকে দিতে দাও।

২৮.০৩.২০১৩
কালকিনি, মাদারীপুর।

মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ, ২০১৩

কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের বাঙলা বিভাগের নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা

রফিকুল ইসলাম মিন্টু,কালকিনি:
কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের বাঙলা বিভাগের নবীন বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থী সালাহ উদ্দিনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান গত ২৪ মার্চ সকাল ১০টায় কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ইয়াকুব খান শিশিরের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামাসের সঞ্চালনে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ খালেকুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূতপূর্ব বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান মিয়া ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবু আলম। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক দেদারুল আলম মুরাদ, সন্ধ্যা রাণী বল, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী জাহিদ হাসান, সালাহ উদ্দিন, নুরুদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।
পুষ্পার্ঘ অর্পণ ও রাখিবন্ধন শেষে বরণপত্র পাঠ করেন কামরুন্নাহার, সংবর্ধনাপত্র পাঠ করেন সুমাইয়া আক্তার সামী। অনুষ্ঠানে সালাহ উদ্দিনকে ক্রেষ্ট ও অভিনন্দন পত্র দেওয়া হয়। উল্লেখ্য ১৯৯৩ সালে বাঙলা বিভাগ যাত্রা শুরু করে এই প্রথম এমএ শেষ বর্ষে প্রথম শ্রেণি পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয় সালাহ উদ্দিন।
সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি করেন অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান, কবি আকন মোশাররফ হোসেন, সালাহ উদ্দিন, সাহিদা পারভিন লিপু ও সুমাইয়া আক্তার সামী। কৌতুক পরিবেশন করেন অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান মিয়া, সংগীত পরিবেশন করেন অধ্যাপক ইয়াকুব খান শিশির, অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান, প্রভাষক সঞ্জয় মজুমদার ও আবুল কালাম আজাদ। সবশেষে সালাহ উদ্দিনের রচনায় নুরুদ্দিন আহমেদের নির্দেশনায় নাটক ‘কালচারাল ফ্যামিলি’ মঞ্চস্থ হয়। এতে অভিনয় করেন সালাহ উদ্দিন, সোহরাব হোসেন, নুরুদ্দিন, দবির হোসেন, শাহ আলম ও শহিদুল ইসলাম।

বাংলাদেশের রাজনীতি আজ কোন পথে?

মো: খবির উদ্দিন

৯০’র গণ অভ্যূত্থানের কথা কাউকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। আজ হঠাৎ মনে পরে গেল ৯০’র গণ অভ্যূত্থানের ইতিহাস। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। প্রতিদিনের মত বন্ধুদের সাথে মিরপুর পল্লবী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন ‘চৈতালী’তে চড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গেলাম। ঐদিনকার প্রথম প্রিয়ড যথারীতি ১১ টায় শুরু হবে। সময় এদিক-সেদিক হওয়ার কোন সুযোগ নেই। হলোও ঠিক তাই। এগারটা বাজার সাথে সাথে কলা অনুষদের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশে যেখান থেকে তাকালেই রেজিষ্ট্রার বিল্ডিং ও মাষ্টার দা-সূর্যসেন হল চোখে পরে এমন একটি কক্ষে স্যারের লেকচার শুরু হলো। শিক্ষক ছিলেন শ্রদ্বেয় ড. রুহুল আমীন স্যার। আমার খুব প্রিয় শিক্ষক ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বহু গল্প করেছি স্যারের সাথে। অনেক প্রাণবন্ত আলোচনা যা আজও ভুলতে পারিনা। একটু নিরবে নিভৃতে থাকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের কথা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান স্যার, প্রফেসর ড. রুইছউদ্দিন স্যার, প্রফেসর ড. আবদুস সাত্তার স্যার, প্রফেসর ড. আবদুল বাকী স্যার, প্রফেসর শামছুল হক স্যারসহ অন্যান্য শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকদের কথা। যাদের কাছ থেকে অ-নে-ক জ্ঞানগর্ভ কথা ও আলোচনা শুনেছি। যখন স্যারদের ক্লাশ শুরু হতো তখন মাঝে মধ্যে মনে মনে ভাবতাম আজ যদি এই ক্লাশটা কোন বিরতি না দিয়ে অবিরাম চালিয়ে যেতেন। মনে পড়লেই হারিয়ে যাই সেই মধুময় স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোর মধ্যে।

যাক্ সে সব কথা, এখন যে উদ্দেশ্যে এই লেখা সে প্রসংগে আসা যাক। ড. রুহুল আমীন স্যার লেকচার শুরু করে এক পর্যায়ে বললেন, দেখেন গতকাল জহুরুল হক হলের উত্তর পাশের রাস্তায় চুন্নুকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। কার ভাগ্যে যে কোন সময় বিপদ এসে যায় বলা মুশকিল। তাই আপনারা একটু সাবধানে চলার চেষ্টা করবেন। যতটা সম্ভব সংঘাত এড়িয়ে নিজেদের রক্ষা করে চলবেন। স্যারের কথার মধ্যে অনেক উপদেশমূলক ইংগিত বহন করছিল যা আমাদের বুঝতে অসুবিধা হলো না। স্যারের কথা শেষ হতে না হতেই হঠাৎ গুলির আওয়াজ হলো, গুলিটা যে খুব কাছে হচ্ছিল তা গুলির আওয়াজেই বুঝা গেল। এরপর শুধু গুলি আর গুলি। মনে হলো এ যেন সেই ছোট বেলার রমজান শেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত ঈদের চাঁদ ওঠার পরে একযোগে গ্রামের শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন রকম বাজি ফুটানোর আওয়াজের মত। স্যার আমাদের খুব জোর করে বললেন, তোমরা কেউ বেঞ্চ থেকে ঊঠোনা এবং জানালার পাশে এসোনা। এইতো পশ্চিম পাশের মাঠেই গোলাগুলির আওয়াজ চলতে লাগল অবিরাম। খবর শোনা গেল স্বৈরশাসক হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ এর পালিত বাহিনীর নেতা অভি-নিরু মিডফোর্ট মেডিকেলের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে রেজিষ্ট্রার বিল্ডিং ও কলা ভবনের মাঝখানের মাঠে ঢুকে পড়েছে। প্রাণপণ গুলি চালিয়ে যাচ্ছে। উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও ক্যাম্পাস দখলে নেয়া। কিন্তু বহুদলীয় ছাত্র ঐক্যের পক্ষ থেকে পাল্টা জবাব দেয়া হলো। প্রায় এক ঘন্টার অধিক সময় ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে আক্রমন ও পাল্টা আক্রমন চলতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ সংগ্রাম করে টিকতে না পেরে স্বৈরশাসকের বাহিনী শেষমেষ বিফল হয়ে সরকারী প্রশাসনের ছত্রছায়ায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছেড়েছিল। আমরা যতটুকু তথ্য পেয়েছিলাম তাতে জানা গেল ঐদিন প্রায় ৫০০ রাউন্ডের মত গুলি ছোড়া হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ সমস্ত ক্লাস অনির্দিষ্টকালের জন্য Ÿন্ধ ঘোষণা করলেন।

দীর্ঘদিন যে সরকারবিরোধী একদফা আন্দোলন চলছিল তা আরও বেগবান হতে লাগল। সরকারের পক্ষ থেকে শুরু হলো সংঘাত, জুলুম, নির্যাতন, মিছিলের উপরে গুলিবর্ষণ। এর একপর্যায়ে ডা: মিলন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেলেন। আন্দোলন আরও তুমুল হতে লাগল। প্রতিদিনই সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম চলতে লাগল। অনেক রক্ত ঝরল, শেষমেষ রক্তের হলি খেলায় স্বৈরশাসক হেরে গেলেন। শেষ চেষ্টা করেও কোন কাজ হলোনা। অনেক তাজা প্রাণ কেড়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত গদির লোভ তাকে ছাড়তে হলো এবং ১৯৯০ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর সাধারণ জনগণ ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের কঠোর প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে ক্ষমতা ছেড়ে দিলেন। অবসান ঘটল নয় বছরের স্বৈরশাসনের। দেশের মানুষ যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলেন।

সংকটকালিন মুহূর্তে দায়িত্ব এসে পড়ল বিচারপতি সাহাব উদ্দিনের কাঁধে, দায়িত্ব পড়ল একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করার। নির্ভেজাল চরিত্রের মানুষ বিচারপতি সাহাব উদ্দিন তাঁর শ্রম ও নিষ্ঠা দিয়ে জাতিকে ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য মানের একটি নির্বাচন উপহার দিলেন এবং প্রত্যেকটি দল এ নির্বাচনকে মেনে নিয়েছিলেন ।

১৯৯১ এর নির্বাচনে সাধারণ জনগণের মধ্যে স্বতস্ফূর্ত ভাব লক্ষ করা গিয়েছিল। জনগণ তীব্র আকাঙ্খা নিয়ে নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। নির্বাচনী ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের সমমনা দলগুলো নিয়ে সরকার গঠন করলেন। বছর না ঘুরতেই আবার আন্দোলন দানা বেধে ঊঠতে লাগল, হরতাল মিছিল মিটিংসহ সংসদ বর্জনও চলতে লাগল। অনেক চড়ই-উৎরাই পেরিয়ে বিএনপি অনেকটা হঠকারী সিন্ধান্ত নিয়ে ১৯৯৬ সালের ১৫ই ফেব্র“য়ারী বিরোধীদলবিহীন জাতীয় সংসদের নির্বাচন করলেন। প্রধান বিরোধী দল না থাকায় একচেটিয়া সংসদের প্রায় সকল আসন পেয়ে গেলেন তারা। কিন্তু বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উক্ত নির্বাচনকে অবৈধ নির্বাচন আখ্যা দিয়ে তত্তাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে পূন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তারা রাজ পথে তুখোড় আন্দোল গড়ে তুললেন। প্রচন্ড আন্দোলনের মুখে বিএনপি বিরোধীদলের দাবী মেনে নিয়ে তত্তাবধায়ক সরকার বিল পাশ করে ২৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৯৬ ক্ষমতা থেকে নেমে পরলেন। প্রমাণ হলো, জনগণের যে কোন যৌক্তিক দাবি সংসদের সংখ্যা গরিষ্ঠতার বলে অবহেলা করে মোটেও পার পাওয়া যায়না।

এবার জনগণ খুব স্বস্তি বোধ করলেন। ভাবলেন এবার বুঝি ক্ষমতার লড়াইয়ের জন্য সংঘাত আর হানাহানি থেকে বাঁচা গেল, ভবিষ্যতের জন্য আর কোন হানাহানির অবকাশ থাকলনা। যেহেতু ভবিষ্যতে প্রতিটা সরকারের মেয়াদ শেষে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত¦াবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অতএব স্বাভাবিকভাবেই বোধগম্য হল যে, নির্বাচন অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানের ও জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণ যোগ্যতা পাবে। এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত¦াবধায়ক সরকারের বিষয়টি সাংবিধানিক ভাবে নিষ্পত্তি হয়ে গেল। 

যেহেতু বিএনটি সংসদ ভেংগে দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তাই নিয়মানুযায়ী নির্দিস্ট (তিন মাস) মেয়াদের মধ্যেই সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। সে অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো এবং নির্বাচন হলো তত্ত্বাবধায় সরকারের মাধ্যমে। এবার সংখ্যা গরিষ্ঠতার বলে ক্ষমতায় এলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এভাবেই ক্ষমতার পালা বদলে আবার ২০০১ সালে সংসদের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন বিএনপি। কিন্তু বিএনপির মেয়াদ শেষে তত্ত্বাধায়ক সরকারে প্রধান ব্যাক্তি কে হবেন এ নিয়েই অনেক নাটক ঘটে গেল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। এ নিয়ে প্রচন্ড রকমের সংঘাতময় পরিস্থিরি সৃষ্টি হলো। এ অরাজক পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগণ আবার অসহায় হয়ে পড়লেন। প্রতিদিনই নৃশংসতা চলতে লাগল। পল্টনের ঘটনা আমাদের অজানার কথা নয়। দেখা গেল চেহারা না চেনার কারনে নিজ দলের লোকদের হাতে নিজেরাই মার খাচ্ছে। যেমন আওয়ামীলীগের এ আমলেও বিশ্বজিৎ এর বেলায় ঘটল। এমনি এক সংকটময় পরিস্থিতিতে এক এগারোর সৃষ্টি হলো। এক এগারোর সময় বিএনপি ও আওয়ামীলীগের উপরে যে খড়গ নেমে এসছিল সে ইতিহাস আমাদের সকলকেই নাড়া দেয়। আজ এ লেখায় এক এগারোর ভালো মন্দ বিশ্লেষণে যাবনা এবং উদ্দেশ্য আমার সেটা নয়।

পাঠক হয়ত মনে করতে পারেন এই পুরনো ইতিহাস সকলেরই জানা আছে তাহলে কেন অহেতুক এই বাসি গল্প আলোচনায় আনা হলো? ঊদ্দেশ্য অবশ্যই আছে। যে ঊদ্দেশ্যে এত পেছনে ফিরে তাকাতে হলো সেটা  হলো আমরা আজ কোথায় ফিরে যাচ্ছি। যেহেতু ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ আন্দেলনের মাধ্যমে অর্জিত তত্ত্ববধায়ক সরকার পদ্ধতি মিমাংসিত হয়েছিল এবং বর্তমান সংসদের মাধ্যমে তত্ত্বধায়ক আইন বাতিল করা হয়েছে তাই ভবিষ্যত নির্বাচন নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম অনিবার্য এ কথা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এখন সহসাই প্রশ্ন আসতে পারে, আসলে আমাদের ভবিষ্যত রাজনীতি কোন দিকে যাচ্ছে?  আমরা দেশ ও জাতিকে আবার সেই পিছনের দিকে অর্থাৎ ১৯৮২, ১৯৯০-এর অভ্যূত্থান, ১৯৯৬’র মাত্র ১৫ দিনের সংসদ না কি এক-এগারোর দিকে নিয়ে যাচ্ছি? জানি, এ উত্তর রাজনীতিবিদরা মিলাতে পারলেও মিলাবেন না।

এ প্রসংগে আমার একটা উদহরণ মনে পড়ে গেল, সেটা হলো- আমাদের দেশের স্বাধীনতার বয়স ৪২ পেড়িয়েছে অর্থাৎ ৪২ বছর পূর্বে আমাদের দেশের জন্ম হয়েছে। এই ৪২ বছর পরেও আমরা কোথায় অবস্থান করছি। শিশু অবস্থায় না-কি ৪২ বছর বয়সের এক সুঠাম দেহের অধিকারীর ন্যায়। জন্মের পরে এক সময় মানুষ হাটতে শিখে। তারপরে একটু জোরে হাটে। তারপরে একা একা দৌঁড়াতে পারে। সারা জীবনতো আর মানুষ হাটা শিখেনা। আমার মনে হচ্ছে, আমাদের দেশের অবস্থা প্রকৃত অর্থে ঐ শিশুটির ন্যায়। যে জন্মের ৪২ বছর পার হওয়ার পরেও বাপের হাত ধরে হাটা শিখছে।

আমি এ দেশের একজন অতি সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশের শ্রদ্ধাভাজন দুই নেত্রীকেই বিনয়ের সাথে অনুরোধ জানাচ্ছি, আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমরা আর অন্যের হাত ধরে হাটা শিখতে চাইনা। আমরা আর হানাহানি চাইনা, আমরা এক ভাই আরেক ভাইয়ের রক্ত দেখতে চাইনা। আমরা অনেক রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে চাই। সর্বোপরি আমরা সহাবস্থান চাই। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা উভয়েই এই মহান স্বাধীনতার মাসকে শ্রদ্ধা করেন। বিশেষ করে এই স্বাধীনতার মাসের উপরে শ্রদ্ধা রেখে আপনারা পিছনের সব অপ্রীতিকর ইতিহাস ভুলে গিয়ে জনগণের ও দেশের কথা চিন্তা করে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি যৌক্তিক সিন্ধান্তে এসে উপণীত হবেন। এদেশের সাধারণ জনগণ যারা কম শিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত বা বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চ শিক্ষিত আছেন তাদেরকে আর শ্রমিক বানিয়ে বিদেশে না পাঠিয়ে যাতে করে এ এদেশের মাটিতেই কর্মক্ষেত্র তৈরী করে দিতে পারেন তার জন্য প্রয়োজনে একটি জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করুন এবং এ দেশের জনগণের হাতকেই কাজে লাগিয়ে দেশকে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে নিন। এদেশের ষোল কোটি মানুষ আপনাদেরকে আমরণ শ্রদ্ধা ও ভালবাসা দিয়ে যাবে। আমরা এই অপরাজনীতি থেকে বেড়িয়ে আসতে চাই।

লেখক: নির্বাহী সম্পাদক, সাপ্তাহিক তিলোত্তমা ও সহকারী ব্যবস্থাপক, দৈনিক করতোয়া।

শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০১৩

মাতৃভাষার একাল-সেকাল

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ
আমরা ক’জন একালের স্মার্ট তরুণ। বন্ধুর জন্য বাসা খুঁজতে বেরিয়েছি রাস্তায়। দেয়ালে টানানো ‘টু-লেট’ দেখে তিলপাপাড়ার চিপাগলিতে বাসা খুঁজতে খুঁজতে এক বৃদ্ধের সাথে দেখা। আমরা বললাম,‘এক্সকিউজ মি আংকেল! ৩১২ নম্বর বাসাটা কোন দিকে?’ বৃদ্ধ অবাক চোখে পরখ করলেন আমাদেরÑ তারপর বললেন,‘আমাকে আঙ্কেল বললে কেন? বল চাচা। চাচা ডাকটি কী বিশ্রী লাগে শুনতে?’ তপু বিড়বিড় করে বলল,‘লোকটা বড্ড ব্যাকডেটেড।’ ইতস্তত হয়ে আমি বললাম,‘সরি!’ বিশ্বাস করুন, আমি বলতে চেয়েছিলাম.....। কিন্তু মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। ভেরি ভেরি সরি। নেক্সটাইম আর বলবনা।’ বৃদ্ধের চোখে-মুখে ক্ষোভের বিচ্ছুরণ। বললেন,‘আবার সরি কেন? বল দু:খিত। বাসাটা ওই দিকে।’ আমরা সমস্বরে বলে উঠলাম,‘থ্যাঙ্ক ইউ!’ বৃদ্ধ এবার রাগ সামলে দন্তবিহীন মুখে মলিন হাসি হাসলেন। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন-‘তোমাদের দোষ দিয়ে কী লাভ? এটাইতো আমাদের স্বভাব। তোমাদের যা শেখাই। তোমরা শিখছ তাই।’ বলেই হাতের লাঠি দিয়ে পথ ঠুকতে ঠুকতে অদৃশ্য হলেন। আমরা হতবাক! অণুকরণপ্রিয়তা আর পরনির্ভরশীলতার লজ্জায় মাতৃভাষার জন্য বেরিয়ে এল অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস!

## সালাহ উদ্দিন মাহমুদ
     কালকিনি, মাদারীপুর।
     আলাপ: ০১৭২৫৪৩০৭৬৩