শুক্রবার, ১ জুন, ২০১২

মুক্তকথা: আর কত নির্যাতিত হলে সংবাদকর্মীরা নিরাপত্তা পাবে

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ:
সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। আর জাতির বিবেকদের দুর্দশা দেখে মানুষের বিবেক আজ প্রশ্নবিদ্ধ। একের পর এক নির্যাতিত হচ্ছে সাংবাদিক। তাও আবার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনীর হাতে। সাংবাদিকতার মতো এ মহান পেশা আজ হুমকীর সম্মুখীন। মফস্বলের সাংবাদিক নির্যাতনের ইতিহাস সেই পুরনো। কিন্তু খোদ রাজধানীতে এ কি অবস্থা? এর দায়ভার কার?
এ মুহূর্তে মনে পড়ে ঠিক দুই বছর আগে আওয়ামীলীগ তথা মহাজোট সরকারের পুলিশ বাহিনী দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা অফিসে হামলা চালিয়েছিল। পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে পত্রিকার প্রেসে তালাও ঝুলিয়ে দিয়েছিল। তখন হয়তো একটি রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এমনটি করা হয়েছিল। কিন্তু পত্রিকাটি শত চড়াই-উৎরাই পেরিয়েও এখনো টিকে আছে। এবং টিকে থাকবে।
সম্প্রতি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির চাঞ্চল্যকর হত্যার ক্ষত না শুকাতেই পুলিশ ও সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি নজিরবিহীন ঘটনা জাতিকে করেছে হতবাক। জনমনে উদয় হয়েছে নানাবিধ প্রশ্ন। একটি ঘটনা হতে পারে অনাকাক্সিক্ষত। একই ঘটনার পূণরাবৃত্তি ঘটলে তাকে অনাকাক্সিক্ষত বলে চালানো যায় না। মিডিয়ার বদৌলতে জনগণও আজ অনেক সচেতন। ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’র চেষ্টা করলে নিশ্চয়ই তা নিস্ফল হবে। পুলিশের এ ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের পিছনে কে বা কারা এ প্রশ্নের জবাব সরকারকেই দিতে হবে। জনগণ যদি ক্ষমতার উৎস হয় তবে সাংবাদিকরা জনগণেরই আত্মা। আত্মা ছাড়া দেহ যেমন মূল্যহীন; তেমন সাংবাদিক ছাড়া জনগণও মূল্যহীন। কারণ সাংবাদিকরাই জনগণের মনের কথা, দু:খ-দুর্দশা, সফলতা-ব্যর্থতা জাতির সমক্ষে তুলে আনেন। 
বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের এ এক নজিরবিহীন ইতিহাস। এর আগে কারো বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় প্রতিহিংসাবশত অনেক হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। তাতে তেমন দু:খ ছিলনা। কারণ এটা একটা চ্যালেঞ্জিং পেশা। সব জেনে-শুনেই মানুষ এ পেশাকে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাংবাদিক নির্যাতনে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে সংবাদকর্মীরা। রক্ষক যদি ভক্ষক হয়-তবে আর আশ্রয় চাইবে কার কাছে? যেভাবে সংবাদপত্র ও বৈদ্যুতিক সংবাদ মাধ্যমের ওপর সরকারি আক্রমণ শুরু হয়েছে। এর শেষ কোথায়? পুলিশ বাহিনীই বা এতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কি কারণে? কোন অশুভ ইশারায় আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সংবাদকর্মীরা।
সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নেমেছে। রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় দি ইনডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার বিভাস চন্দ্র সাহা বাসের চাঁপায় নিহত হলে সহকর্মী সাংবাদিকরা তার লাশ আনতে গেলে পুলিশ তাদের বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এতে ১০-১২জন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার রেষ কাটতে না কাটতেই গত ২৬ মে শনিবার দুপুরে দায়িত্ব পালনের সময় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে প্রথম আলোর তিন ফটোসাংবাদিক খালেদ সরকার, সাজিদ হোসেন ও জাহিদুল করিমকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে পুলিশ। ওদিকে বিডি নিউজ ২৪ ডটকম অফিসে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিযে আহত করেছে বেশ কয়েকজনকে। তাহলে পুলিশ আর সন্ত্রাসীদের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়? সর্বশেষ আগারগাঁওয়ে হামলার তিন দিনের মাথায় ঢাকার আদালত পাড়ায় বিচারপ্রার্থী মহিলাকে পুলিশ ক্লাবের ভেতর নিয়ে পুলিশ শ্লীলতাহানী ঘটায়। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশের হামলার শিকার হন প্রথম আলোর আদালত প্রতিবেদক প্রশান্ত কর্মকারসহ কয়েকজন সাংবাদিক। গত ২৯ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের প্রবেশ পথে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিনের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে।
এ কেমন শত্র“তা? এ কেমন প্রতিশোধ? পুলিশের সাথে সাংবাদিকদের শত্র“তা কিসের? না কি পুলিশের যাবতীয় অপকর্ম সাংবাদিকরা তুলে ধরেন বলেই প্রতিশোধ নিতে এ হামলা। আবার কি না কাঁটা ঘায়ে লবন ছেটাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি শামসুল হক টুকু। তিনি পুলিশ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে সংবাদ সংগ্রহ করতে বলেন। এ পরামর্শ যেমন হাস্যকর তেমনি উদ্বেগজনক। তার এ বক্তব্যের জন্য চারিদিকে নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রতিবাদ জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। এমনকি এ রকম বক্তব্যের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংবিধান প্রণেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। পক্ষান্তরে এটাই প্রমাণিত হয়-সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ইচ্ছাকৃত। এবং ক্ষমতাসীনরা এর সাথে জড়িত। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন পুলিশের পক্ষে সাফাই গাইছেন। তিনি বললেন,‘পুলিশ এখন অনেক ভালো হয়েছে।’ এই যদি হয় ভালোর নমুনা। তাহলে জগতে মন্দ বলতে কী আছে? পুলিশের অধঃপতন প্রমাণ হয় তাদের মারমুখী ভুমিকা দেখে। পুলিশের অপকর্ম ধরা পড়ে গিয়েছিল বলেইতো তারা উপস্থিত আইনজীবি-সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাহলে কী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা হতাশাজনক নয়? এরপরও কী মন্ত্রীদের মুখে ‘অবস্থা ভালো’ কথাটি শোভা পায়। বরং এমন অবস্থার দায় স্বীকার করে তাদের পদত্যাগ করা উচিৎ। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে-এমন মন্ত্রী রেখে লাভ কী?
এমন ঘটনার জন্য সরকার কি বিব্রত বা বিন্দুমাত্র বিচলিত নন? অবস্থা দেখে তো তাই মনে হয়। এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ ঘটনার নেপথ্য শক্তি কারা? তাদের খুঁজে বের করার দায়িত্ব কার? এ ন্যাক্কারজনক অবস্থার মধ্যেও জল ঘোলা করার জন্য ‘সচেতন সাংবাদিক সমাজ’র ব্যানারে ‘সাংবাদিক নির্মূলের আহ্বান’ জানান কারা? তাদের শেকড় কোথায়? তা কি উপরে ফেলা সম্ভব নয়? মৌচাকে ঢিল ছুড়লে অবস্থা কি হয় তা হয়তো ভুক্তভোগিরা নিশ্চয়ই অবগত আছেন। রাতের আঁধারের এ সচেতন সাংবাদিক সমাজ কারা? সাংবাদিক ও পুলিশের মাঝে দ্বন্দ্ব বাধিয়ে ফায়দা নেওয়ার ফন্দি আঁটেন কারা? তারা কি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে? তাই বলতে হয়-‘ভিক্ষা চাইনা কুত্তা সামলান!’
সাংবাদিকরা সরকার বা পুলিশের শত্র“ নয়। সরকার যদি জনগণের বন্ধু হয় তবে সাংবাদিকরা সে বন্ধুত্বের সোপান। সিঁড়ি ধ্বংস করে উপর তলায় ওঠার চেষ্টা করা বৃথা। তাই সাংবাদিক নির্যাতনের সাথে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করা সরকারের দায়িত্ব। কারণ জাতির বিবেকরা যদি লাঞ্ছিত হয় তবে জাতিকেও লাঞ্ছিত করা হয়। তাই যত দ্রুত সম্ভব সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ
লেখক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী
০১৭২৫৪৩০৭৬৩

বুধবার, ৩০ মে, ২০১২

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫১ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

আফিয়া মুন:
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫১ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে গতকাল ৩০ মে সন্ধ্যা ৭ টায় কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ মাঠে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহরিয়াজের সভাপতিত্বে  লিটু চট্টোপাধ্যায়ের সঞ্চালনে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ মোঃ খালেকুজ্জামান, অধ্যাপিকা তাহমিনা সিদ্দিকী ও সাকিলুর রহমান সোহাগ। আলোচনা করেন অধ্যাপক কাজী কামরুজ্জামান, অধ্যাপক দেদারুল আলম মুরাদ ও কবি দুলাল সরকার। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  এতে কালকিনি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, কালকিনি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কালকিনি
সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমী, প্রথম আলো বন্ধুসভা ও উদীচী,কালকিনি শাখার শিল্পীরা রবীন্দ্র সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

সীমান্ত হত্যায় দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ:
দিনদিন বেড়েই চলছে সীমান্ত হত্যা। ফলে শিথিল হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। বহুবার দু'দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর কোন হত্যাকান্ড নয়; আর কোন গুলি নয়। এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ সম্মান করলেও ভারত বারবার অপমান করেছে। এ কেমন বন্ধুত্বের নমুনা। অথচ ভারত জোর গলায় বলছে, বাংলাদেশ তার  অকৃত্রিম বন্ধু। কিন্তু সীমান্ত হত্যার কারণে যে দু'দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটছে।  তা উত্তোরণের পথ কোথায়?
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত একযুগে বিএসএফের হাতে ১০০৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। আর গত এক বছরে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন ২১ জন। ভারতের পুলিশের হাতে নিহত হয়েছেন ১ জন। ভারতীয় নাগরিকদের হাতে নিহত হয়েছেন ১০ জন। সীমান্তের ওপারে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির হাতে নিহত হয়েছেন ৩ জন। সব মিলিয়ে গত এক বছরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), ভারতীয় পুলিশ, ভারতীয় নাগরিকের হাতে ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ বাংলাদেশি একজন সন্ত্রাসীর হাতেও ভারতীয় একজন নাগরিক নিহত হওয়ার কোন নজির নেই। এছাড়া মহাজোট সরকারের গত তিন বছরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে দীর্ঘ হয়েছে লাশের মিছিল। আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের ৩বছরে সীমান্ত এলাকায় ২০০৯ সালে ৯৮ জন, ২০১০ সালে ৭৪ জন, ২০১১ সালে ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বিএসএফের হাতে অপহৃত হয়েছেন ৯০ বাংলাদেশি। তাই মনে হয় আমাদের বন্ধুত্ব এখন একতরফা হয়ে যাচ্ছে। ভারত আমাদের বুকে টেনে পিঠে ছুড়ি বসিয়ে দিচ্ছে।
গত ২৩ মে দিনাজপুরের ফুলবাড়ি সীমান্তের আমড়া বিওপির সোনাপাড়া, রসুলপুর সীমান্তের ছোট সইচান্দা গ্রামের মো. নাদের আলী বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারালেন। এঘটনা আজ নতুন নয়। প্রতি সপ্তাহেই সীমান্তে নিহত হচ্ছে বাংলাদেশি নাগরিক। কিশোরী ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারের বেড়ায় লাশ ঝুলিয়ে রাখা, দিনাজপুরের বিরামপুরের সাইফুল ইসলামকে হত্যা কিংবা চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবক হাবিবুর রহমানকে দিগম্বর করে হাত-পা বেধে নির্দয়ভাবে নির্যাতনের পর গোপনাঙ্গে পেট্রল ঢেলে উল্লাসের  দৃশ্য ভিডিও চিত্রে দেখে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। সেদিন ভারত বলেছিল-এমন ঘটনা আর ঘটবে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং নির্দেশ দিয়েছিলেন-যাতে এধরনের ঘটনা আর না ঘটে সে ব্যাপারে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার। হাবিবুর রহমানের অত্যাচারের সাথে জড়িত ৮ জন বিএসএফ সদস্যকে বহিস্কার করা হয়েছে। কিন্তু অত্যাচারতো বন্ধ হয়নি। সে ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৬ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী সীমান্তে বাংলাদেশি আব্দুল লতিফ লেবুর লাশ ফেরত দিয়েছিল ভারত। আর যখন ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সাথে ‘কারপাস’ চালুর ব্যাপারে আলাপ করছেন, তখন যশোরের ধান্যখোলা সীমান্তেরাশেদুজ্জামান নামে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। সাংবাদিকরা এব্যাপারে জানতে চাইলে বিরক্তিমিশ্রিত সুরে প্রণব মুখার্জি বলেন,‘এতে দুই দেশের সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আমি মনে করি।’



তবে কি এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া? ভারতের সাথে বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে আমাদের অকাতরে প্রাণ দিতে হবে? বাংলাদেশের প্রতি ভারেতের তথাকথিত এই অকৃত্রিম বন্ধুত্ব কি দিনদিন বাড়তেই থাকবে? ভারত আমাদের গুলি করে মারবে আর সান্ত্বনা দেবে। এভাবে গরু মেরে জুতা দানের সংস্কৃতি আর কতকাল চলবে? তাহলে কী আমরা ব্যর্থ। সরকার কেন এর প্রতিবাদ করতে পারছে না। অথচ বাংলাদেশ সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন- সীমান্তে যা কিছু ঘটছে, তা নিয়ে রাষ্ট্র চিন্তিত নয়। এসব অতীতে ঘটেছে ,এখনো ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটবে। এগুলোর দিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে সরকার মনে করে না।
সীমান্ত হত্যাকান্ড নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন। মানবাধিকার সংস্থার চাপে ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে ‘দোষ’ স্বীকার করেন। কিন্তু নির্যাতন বন্ধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। ভারতের মানবাধিকার সংগঠন ‘মাসুমের’ সেক্রেটারি জেনারেল কিরিটি রায় বলেছেন,‘বিএসএফ একের পর এক নিরস্ত্র বাংলাদেশিদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে। এটা শুধু মানবাধিকারের লঙ্ঘনই নয়; বরং ভারতীয় সংবিধানের পরিপন্থী। এ কারণে তারা যা ইচ্ছা, তা করে পার পেয়ে যাচ্ছে।’
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে নানাবিধ সমস্যা রয়েছে। এ নিয়ে একাধিক বার বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু নির্যাতনের হার না কমায় প্রতিনিয়ত আমাদের উদ্বেগ আরো বেড়ে যাচ্ছে। ওদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধান ইউ কে বানশাল গত ৭ ফেব্র“য়ারি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন,‘ সীমান্তে গুলি চালানো বন্ধ করা পুরোপুরি সম্ভব নয়।’ বিভিন্ন কারণ দর্শিয়ে তিনি বললেন,‘সীমান্তে গুলি চলবে।’ ঠিক সে মুহূর্তে বাংলাদেশ-ভারত কর্তৃপক্ষ ট্রানজিট, ট্রান্সশিপমেন্ট, তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি, ফেনী নদীর ওপর সড়ক নির্মাণসহ ভারতকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার ও বাংলাদেশ-ভারত সরাসরি রেলপথ নির্মাণে সিদ্ধান্তের কাছকাছি পৌঁছেছেন।
সীমান্তে হত্যার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে বাংলাদেশে নির্বিঘেœ ফেনসিডিল আনার ক্ষেত্রে কোন বাধা আসলেই তখন হত্যার শিকার হন কিছু নিরীহ বাংলাদেশি। আসলে ফেনসিডিল চোরাচালান নিরাপদ করতেই বিএসএফ বেছে নেয় বর্বর হত্যাকান্ডের পথ। শোনা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বোতল ফেনসিডিল প্রবেশ করতে বিএসএফকে দিতে হয় পাঁচ টাকা। যেটা বিএসএফের জন্য একটি লাভজনক ব্যবসা। কারণ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গড়ে উঠেছে ১ হাজার ২ শ’র মতো ফেনসিডিল কারখানা। যখন বাংলাদেশের র‌্যাব ও বিডিআর ফেনসিডিল ঠেকাতে ‘জিহাদ’ ঘোষণা করেছে তখন প্রতিদিন লাখ লাখ ফেনসিডিল বাংলাদেশে আসা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাংলাদেশে ফেনসিডিল পাঠাতে ব্যর্থ হয়ে বিএসএফ প্রতিশোধ নিতে মেতে উঠেছে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে। আর এ কর্মকান্ডের মদদ দিচ্ছেন বিএসএফ প্রধান।
এর প্রতিকার কী? সীমান্তে লাশের মিছিল আর কত দীর্ঘ হবে? কবে জেগে উঠবে জাতি ভারতীয আগ্রাসনের বিরুদ্ধে? এ মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড চিরতরে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

রবিবার, ২৭ মে, ২০১২

সংস্কৃতি: কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্মবার্ষিকী

নুরুদ্দিন আহমেদ:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্মবার্ষিকী ও বিদ্রোহী কবিতার ৯০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মাদারীপুর শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে গত ২৬ মে সন্ধ্যা ৭ টায় স্বাধীনতা অঙ্গনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি নুর-উর-রহমানের সভাপতিত্বে আবৃত্তি প্রশিক্ষক ইমরান সাগরের সঞ্চালনে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ ও সরকারি নাজিমুদ্দিন কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মিয়া আব্দুল হালিম। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।


শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১২

মাদারীপুর শিল্পকলা একাডেমী ভবনের স্থান নির্ধারণ

মারজিয়া নিশি:
সংস্কৃতি কর্মীদের জন্য আনন্দের সংবাদ হলো যে, মাদারীপুর শিল্পকলা একাডেমী ভবনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। গত শুক্রবার সকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ভবনের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শণ করেন।
মাদারীপুর শকুনি লেকের দক্ষিণ পাড় থেকে স্থানান্তরিত করে মাদারীপুর- শরীয়তপুর সড়কের লালুনা চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সামনে নতুন ভবনের স্থান নির্ধারণ করা হয়। গত শুক্রবার সকালে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান স্থান পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোঃ সিদ্দিকুর রহমান, আরডিসি সৈয়দ ফারুক আহমেদ, সাবেক পৌর মেয়র নুরে আলম বাবু চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাজাহান হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আবুল বাশার, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সেলিম, শিল্পকলা একাডেমীর কার্যকরি সদস্য ডাঃ রেজাউল আমিন, নাট্য প্রশিক্ষক আ জ ম কামাল, সংগীত প্রশিক্ষক সিমা সাহা, আবৃত্তি প্রশিক্ষক ইমরান সাগর, নৃত্য প্রশিক্ষক আজিজুল ইসলাম স্বপন, দহন সম্পাদক নাট্যকর্মী সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, বি এ কে মামুন ও একাডেমীর ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। নৌমন্ত্রী এসময় আগামী ১৯ জুন ঢাকায় জাতীয় নাট্যোৎসবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী মঞ্চে মাদারীপুর শিল্পকলা একাডেমীর নাটক বিভাগের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘একটাই চাওয়া’ নাটক মঞ্চস্থ করতে যাতায়াতের জন্য গাড়ি ও অভিনেতাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।   

শুভ জন্মদিন

‘‘বিদায়, হে মোর বাতায়ন- পাশে নিশীথ জাগার সাথী!
ওগো বন্ধুরা, পান্ডুর হয়ে এল বিদায়ের রাতি!’’

বাংলাদেশের জাতীয় কবি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের
১১৩ তম জন্মদিনে রইল গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি....।
শ্রদ্ধাবনত,
আফিয়া মুন,
সহযোগি সম্পাদক,
দহন ( সাহিত্যপত্র)।

না

জাহিদ হাসান

পকেটে থাকলে টাকা,
প্রেম বলে তুমি পাকা।
মানিব্যাগ হলে ফাঁকা,
প্রেম বলে পালা।
এ রকম টাকার প্রেমকে না...।
প্রথম প্রথম ভালো লাগা-
পরক্ষণেই শুরু ফোনালাপ.
নিমিষেই অন্তরঙ্গ মুহূর্ত-
পরিপুর্ণতার পূর্বেই প্রেম চম্পট।
এ রকম সস্তা প্রেমকে না...।
যেসব বন্ধু নেশা করতে বলে,
সে সব বন্ধুদের না...।
প্রেমে ছ্যাঁকা খেয়ে হতাশায় ডুবে থাকা,
হতাশাকে না....।
যে সব পার্টিতে থাকে মদ,
বিয়ারের মহা উৎসব।
সে সব পার্টিকে না...।
যে সব বর্ষপূর্তিতে
সবাই মেতে ওঠে নেমার উন্মাদনায়,
সে সব বর্ষপূর্তিকে না...।
সমাজ থেকে মাদককে সমস্বরে
না .. না ..  না  .. না  ..।

সোমবার, ২১ মে, ২০১২

দু:স্বপ্নের সান্ত্বনা

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

আমি রাত জেগে অন্ধকার দেখি-
দু'চোখে নেচে ওঠে দু:স্বপ্নের বিভিষিকা।
তুমি সুখের পৃথিবীতে ঘুমের ঘোরে
দেখ সাজানো গোছানো রঙ্গিন স্বপ্ন।

আঁচলে তোমার বর্ষা ভেজা ফুল,
অন্ধকারে জ্বলে ওঠে তারার মতন।
ঘাসের বুকে জমে থাকা জলে সিক্ত
তোমার পা দু’খানি রাঙা হয় আরো।

আমি অন্ধকারের বিভিষীকাময় দু:স্বপ্নে
তোমার শাড়ীর কোমল আঁচল ছুঁই।
নিজের অজান্তেই হাতের মুঠোয়
তুলে আনি যুগল সাপের সঙ্গমের বীজ।

দুধ-কলা দিয়ে পোষা দু:স্বপ্নের সাপ
চোখ ফুটলেই প্রতিনিয়ত দংশন করে।
তবু অন্ধকারের দু:স্বপ্নের সান্ত্বনা ভেবে
তাকে আগলে রাখি বিশ্বাসের চুড়ায়।



বুধবার, ১৬ মে, ২০১২

প্রসঙ্গ : রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান

(বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫১ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে)
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ :
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মুসলমানদের জন্য কী করেছেন ? এমন প্রশ্ন বহুকাল ধরেই বাঙলা সাহিত্যের মুসলমান পাঠক ও রবীন্দ্র সংগীতের মুসলমান শ্রোতাদের মুখে শোনা যাচ্ছে। এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর আছে কি না আমার জানা নেই। অভিযোগগুলো এ রকম : রবীন্দ্র সাহিত্য তথা উপন্যাস, ছোটগল্প, কবিতা, নাটক কিংবা গানে কোথাও কোন মুসলমান চরিত্রকে বড় করে দেখান হয়নি। কেন দেখান হয়নি? এ নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। সাহিত্যিক আনোয়ারুল কাদীর বলেছিলেন : আকাশের সূর্য মুসলমানদের জন্য বিশেষ কি করেছে?
এ প্রসঙ্গে কাজী আব্দুল ওদুদ তাঁর ‘রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান-সমাজ’ প্রবন্ধে বলেছেন,‘‘ কবি আকাশের সুর্যের মতোই একজন সহজ মানব বন্ধু। অবশ্য যেহেতু কবি একজন মানুষ, এক বিশেষ পরিবেষ্টনের সৃষ্টি, সেজন্যে অত্যন্ত কাছ থেকে খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে আলোকের উৎস সূর্যেও ধরা পড়ে কারো দাগ। যে গোলাপ সৌষ্ঠব আর গন্ধে অতুলনীয় তার স্পর্শ লোভাতুর লাভ করে হাতে কাঁটার আঘাত। কিন্তু কালোদাগ সত্ত্বেও সূর্য সূর্যই। কাঁটা সত্ত্বেও গোলাপ গোলাপই। এক বিশেষ পরিবেষ্টনে জন্ম সত্ত্বেও কবি চিরন্তন মানব-তাঁর পরিবেষ্টনের সমস্ত সীমারেখা অবলীলাক্রমের অতিক্রম করে তাঁতে উৎসারিত হয় মানুষের চিরন্তন সুখ, চিরন্তন দু:খ, চিরন্তন প্রেম, চিরন্তন অভয়। যেহেতু রবীন্দ্রনাথ কবি, এবং যেহেতু মুসলমান মানুষ, সে জন্যে মুসলমান তাঁর আজকার বিশেষ ঐতিহাসিক বিবর্তণের প্রভাবে বুঝুক আর নাই বুঝুক, রবীন্দ্রনাথ বাস্তবিকই তার পরম বন্ধু ব্যতীত আর কিছু নন।”
একথা সত্য যে, এমন প্রশ্নের উদ্ভব হওয়া মুলত অবান্তর নয়। কিন্তু রবীন্দ্রানুরাগীরা এমন প্রশ্ন শুনেই চটে যান। কেই কেউ আবার বলেন : রবীন্দ্রনাথ হিন্দুও না, মুসলমানও না- তিনি একজন মানুষ। রবীন্দ্রনাথ মানুষ হওয়া সত্ত্বেও মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতি তার প্রকৃতিগত বিরূপভাব না থাকলেও এমনকি অল্প-বিস্তর অনুরাগ ছিল। তবুও তিনি সে সভ্যতা ও সংস্কৃতি সম্বন্ধে প্রায় মৌন ছিলেন। তাঁর সুদীর্ঘ সাহিত্যিক জীবনে মুসলমান প্রসঙ্গ খুব বেশি এড়িয়ে গেছেন। তবে হিন্দু-মুসলমানের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় যখন বাংলাদেশ ফাটো ফাটো, টান টান উত্তেজনা তখন রবীন্দ্রনাথ তার ‘কালান্তর’ প্রবন্ধে ভারতবর্ষের ইতিহাসে পালাবদলের প্রশ্নে মুসলমান বিজয়ের কথা উল্লেখ করেছেন।
মূলত হিন্দু-মুসলমানের সংঘাত নিয়ে রবীন্দ্রনাথ গভীরভাবে চিন্তাও করেছেন। তীক্ষ্ম দৃষ্টি নিয়ে উবয়ের সমস্যা সমাদানের কারণগুলো ঘেঁটে দেখেছেন এবং দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তাঁর মতে সমস্যা সমাধানে মনের পরিবর্তন, সত্যের সাধনা ও মনুষ্যত্বের বিকাশের প্রয়োজন। সমালোচকরা বলেছেন, শিল্পী ছবি আঁকেন তাঁর বিশেষ পরিচিত জনের মুখ অবলম্বন করে। তাঁর প্রতিদিনের দেখা মুখগুলোও তুলিতে ধরা পড়ে না। অথচ ক্ষণিকের দেখা এক-আধ পরিচিত মুখ তাঁর মনে গেঁথে থাকে দীর্ঘদিন ও দীর্ঘরাত। শিল্পীর এমন পক্ষপাতের আসল রহস্য আমাদের বোধগম্য নয়।
সে কথা না হয় বাদই দিলাম। রবীন্দ্রনাথতো কেবল একজন শিল্পী নন, একজন জীবন সমালোচকও বটে। সে হিসাবে তাঁর দেশবাসী মুসলমান সম্পর্কে তাঁর মৌনভাব কি অদ্ভুত নয়? এমন প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে, মুসলমান সম্পর্কে তিনি যে কম আলোচনা করেছেন তা নয়, তিনি যে আলোচনা করেছেন তা গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমান ধর্মের প্রতি অথবা অন্য ধর্মের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ব্যক্ত হয়েছে তাঁর ‘সতী’ নাটিকায়। ভারতের মুসলমানদের দোষ ও গুণ দুই-ই-তাঁর আলোচ্য বিষয় ছিল।
‘রবীন্দ্রনাথ মুসলমানদের নিয়ে কোন গান রচনা করেছেন কি না?’ - এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর কেমন হবে ঠিক বলা যাচ্ছে না। আর শ্রোতাদের নিবৃত্তও করা যাবে কি না আমাদের জানা নেই। বাস্তবিক অর্থে এ ধরণের প্রশ্ন অবান্তর না হলেও অট্টহাসির জন্ম দেয়। এমন প্রশ্ন থেকে সৃষ্টি হয় এক শ্রেণির দু:খী মুসলমানের। সাহিত্য থাকুক সাহিত্যের মতোই। হিন্দু কি মুসলমান- কে কার জন্য কি করেছে? এমন প্রসঙ্গ টেনে মনের মাঝে দীনতা সৃষ্টির প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। রবীন্দ্রনাথ আমাদের , রবীন্দ্রনাথ সত্য ও সুন্দরের। মানুষ সত্য ও সুন্দরের পূজারী, সুতরাং রবীন্দ্রনাথ মানুষের।

কালকিনি প্রবাহ

- আকন মোশাররফ হোসেন :
(পূর্ব প্রকাশের পর)
কালকিনি উপজেলার আদিবাসী কারা, কোথা থেকে তাদের আগমন ঘটেছিল আর কোথায় চলে গেছেন তা- বলা কঠিন। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, কালকিনি উপজেলার মুসলমান বনেদী পরিবারগুলো বহিরাগত। সৈয়দ, খন্দকার, চৌধুরী, হাওলাদার, ভূইয়া, তালুকদার এদের অন্তর্ভূক্ত। অন্যদিকে ব্রাক্ষ্মণ সম্প্রদায়ের বসবাস এখানে অনেক আগে থেকে তাছাড়া কায়স্থ, সাহা, মালো ইত্যাদি হিন্দু সম্প্রদায় তখনও ছিল এখনও আছে। তবে নিু বর্ণের হিন্দু নম সম্প্রদায়ের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি ছিল। বাঁশগাড়ী, আলীনগর, কাজী বাকাই, মাইজপাড়া, ঘোষেরহাট, নবগ্রাম, শশিকর এলাকার জলাভূমিতে ও বিল অঞ্চলের এরা প্রধান অধিবাসী। হিন্দু জমিদার ও উচ্চ বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের অত্যাচার ও শোষণের কারণে এরা নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছিল। ভৌগোলিক  দৃষ্টিতে দেখা যায় নদী প্রবাহিত এলাকা আলীনগর, এনায়েতনগর, বাঁশগাড়ী, শিকারমঙ্গল, চর দৌলত খান, সাহেবরামপুর, কয়ারিয়া ও রমজানপুর ইউনিয়নের নদীর তীর বা চরাঞ্চলের মুসলমানদের আবাসন। যদিও নদীর ভাঙ্গা-গড়ার খেলা কৌতুহলের বিষয়। এ এলাকার নম শুদ্র সম্প্রদায়ের নারীরা এবং গরীব মুসলমান নারীদের অনেককে পুরুষের মতো ধুমপান করতে দেখা গিয়েছে আদীকাল থেকেই।
প্রাচীন অনেক নিদর্শন কালকিনি থানাতে রয়েছে। এই উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের আমড়াতলা ও খাতিয়াল গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে আড়াই হাজার একর জমিতে সেনাপতির দিঘি রয়েছে। শীত মৌসুমে নানা প্রকার হাজার হাজার অতিথি পাখি ঐ দিঘিতে শীত অবকাশ যাপন করে। জনশ্র“তিতে জানা যায়, মুগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে সুবাদার ইসলাম খার নেতৃত্বে বিশাল একদল সৈন্য ঢাকা যাওয়ার পথে এখানে কিছুদিন অতিবাহিত করেন। পানীয় জলের অভাব মেটাতে সেনাবাহিনী দ্বারা এই দিঘি খনন করা হয়। এ কারণেই এই দিঘির নামকরণ করা হয় সেনাপতির দিঘি।
কালকিনি উপজেলায় ইসলাম ধর্মের আগমন ও বিকাশের পূর্বে হিন্দু ধর্ম ছিল প্রধান। এখানকার প্রাচীন জনগোষ্ঠী ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী। দশম শতাব্দীতে এ এলাকায় কিছু কিছু বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর বসবাসের প্রাচীন ইতিহাস পাওয়া যায়। ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার লক্ষে এ এলাকায় পীর-দরবেশ- আউলিয়ার আগমন ঘটেছে। সেই সুবাদে এই এলাকার একটি মৌজার নাম আউলিয়ার চর।
হযরত পীরজাদা শাহ সুফি এনায়েতপুরী (র) সাহেবের বর্জার (ইঞ্জিনবিহীন বড় নৌকা) নোঙর করে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেছিলেন যেকারনে এই মৌজার নাম এনায়েতনগর হয়েছে। এবং সেই থেকে এই মৌজা ও ইউনিয়নের নাম এনায়েতনগর।
(চলবে)   

মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১২

বর্ষা আসে বিরহ নিয়ে

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ:
আমার জীবনে বর্ষা আসে বিরহ নিয়ে। তাই আমার কাছে মনে হয় বর্ষা মানে ক্ষণে ক্ষণে বিরহের গান। বলা নেই - কওয়া নেই অমনি শুরু হয়ে গেল অশ্র“র বর্ষণ। কখনো কখনো মনে হয় চোখ ভরা অভিমান নিয়ে ধেয়ে আসা কিশোরীর পায়ের নূপুরের রিনি ঝিনি আওয়াজ।
এখনো বর্ষা আমাকে কাঁদায়। তাই আমার কাছে বর্ষা মানে গর্জে ওঠা নদী। দু’কুল ছাপিয়ে তলিয়ে দেওয়া গ্রামের পর গ্রাম। সুখ-দু:খে একাকার হয়ে ভেসে বেড়ানো পাল তোলা নৌকা। বিরহী সুর জেগে ওঠা মাঝির ভাটিয়ালি গান। কলা গাছের ভেলায় ভেসে যাওয়া ক্ষুদ্র জীবন। ব্যাঙের একটানা ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ ডাকে দূর থেকে ভেসে আসা রাগ-রাগিণী। পানকৌড়ির ডুবসাঁতারের খেলার মতো প্রিয়তমার লুকোচুরি।
তবুও অসহায় আমি নি:সঙ্গ হয়ে আজ চার দেয়ালের বন্দী জীবন থেকে বের হয়ে বারবার ফিরে যেতে চাই বর্ষাস্নাত গাঁয়ের বুকে। যান্ত্রিক সভ্যতার নাগপাশ ছিড়ে দু’হাতের আজলা ভরে কুড়িয়ে নিতে চাই প্রকৃতির নির্মল বাতাস। ইচ্ছে হয় কাদা জলে হোচট খেতে, ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে। সাঁঝ পোহানো কোন রাতে জোছনা বিলাসের আয়োজন করতে। গভীর রাতে বিলের জলে নৌকা ছেড়ে দিয়ে সুখের বাঁশরী বাজাতে।
সম্বিত ফিরে পেয়ে দেখি বৃষ্টির তোড়ে থরথর কওে কাঁপে জানালার শার্শি। ঝড়ো হাওয়ার রাতে বিরহের গান গেয়ে যায় বাতাস। এক পশলা বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দেয় শরীর। কী এক স্বপ্নীল শিহরণ জেগে ওঠে মনে। মনে পড়ে এক বর্ষারাতে হাতে হাত রেখে বলেছিল সোনাবউ- ‘ আজ জোছনার আলোয় বৃষ্টির জলে ভিজবো দু’জন’।
এখনো আগের মতোই বর্ষা আসে ; আবার চলেও যায়। শুধু আমার সোনাবউ অন্য কোথাও। বৃষ্টির শব্দে তার কান্নার ধ্বনি ভেসে আসে। দু'চোখের তারায় ভেসে ওঠে বৃষ্টিভেজা একটি গ্রাম। মাঝখানে আমি আর সোনাবউ।
দরজা খুলে বাইরে এসে দাঁড়াই খোলা আকাশের নিচে। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা তার চোখের অশ্র“ হয়ে জমা হয় আমার অসহায় হাতের তারায়.....।

কিশোর কবি সুকান্ত স্মরণে

মারজিয়া নিশি :
“বন্ধু, আজকে বিদায়! দেখেছ উঠল যে হাওয়া ঝড়ো, ঠিকানা রইল, এবার মুক্ত স্বদেশেই দেখা করো ॥”-এ আহ্বান জানিয়ে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ২১ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্য ১৯২৬ সালরে ১৬ই আগষ্ট কোলকাতার ৪২ মহীম হালদার স্ট্রিটের মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম নবারুন ভট্টাচার্য্য। মাতার নাম সুনীতি দেবী। কবির পুর্ব পুরুষরা এদেশের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বসবাস করতেন। কবির জন্মের পূর্বেই তাঁর পূর্ব পূরুষরা এ দেশ থেকে ভারতে চলে যান। দীর্ঘদিন ধরে কবির পৈতৃক ভিটায় কোন প্রকার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তার জন্ম ও মৃর্ত্যুবার্ষিকী পালিত হতো। গত বছর থেকে সুকান্ত স্মৃতি সংসদ, উদীচী ও সুকান্ত সেবা সংঘের পক্ষ থেকে ব্যাপক আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।
কবির পূর্ব পুরুষরা এদেশ থেকে চলে যাবার পর তার পৈত্রিক ভিটা ভূমিদস্যুরা দখল করে নেয়। দীর্ঘদিন দখল থাকার পর ২০০৫ সালে কবির পৈত্রিক ভিটাটি দখলমুক্ত করা হয়। কবির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য তার পৈত্রিক ভিটায় সরকারিভাবে একটি অডিটোরিয়াম এবং একটি লাইব্রেরী গড়ে তোলা হয়।
বাংলা বিশ দশকের সূচনাতে ঔপনিবেশিক বৃিটশ শাসনের বিরুদ্ধে গণজাগরণ শুরু হয়। এই গণজাগরণের উত্তাপ ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের মধ্যে থেকে কবি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন সুকান্ত ভট্টাচার্য্য। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম, হিন্দু-মুসলমান বিরোধ, রুশ বিপ্লব সুকান্তের চেতনাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। ঘুম নেই, ছাড়পত্র, পূর্বাভাস কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।


বন্ধু কী খবর বল

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ:
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কল্যাণে অগণিত বন্ধু আমার। তাদের ছবি দেখি। অনলাইনে কথাও হয়। হাই- হ্যালো ! কেমন আছ? কি করছ...? ইত্যাদি। কেবল জানার জন্যই জানা। অন্তর থেকে কোন টান অনুভূত হয়না। অনেকটা যন্ত্রমানবের মতো। সভ্যতার উৎকর্ষতার সাথে সাথে আজকাল আমিও হয়ে উঠেছি যান্ত্রিক।
বন্ধুদের প্রসঙ্গ এলে কাজী নজরুল ইসলামের একটা চিঠির কয়েকটি কথা মনে পড়ে-‘ বন্ধু আমি পেয়েছি- যার সংখ্যা আমি নিজেই করতে পারব না। এরা সবাই আমার হাসির বন্ধু, গানের বন্ধু। ফুলের সওদার খরিদ্দার এরা। এরা অনেকেই আমার আত্মীয় হয়েছে, প্রিয় হয়ে ওঠেনি কেউ।’
যান্ত্রিক বন্ধুদের কথা বলছিলাম। যার সংখ্যা অগণিত। বন্ধু হয়েছে ঠিকই ; কিন্তু প্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি কেউ। ফেসবুকের ফাইন্ড ফ্রেন্ড্সে গিয়ে আজও হারিয়ে যাওয়া পুরনো দিনের বন্ধুদের খুঁজি। কোন কোন নিস্তব্ধ রাতে যাদেরকে প্রিয়ার মতো জড়িয়ে ধরে শুয়েছিলাম। মনের অব্যক্ত কথাগুলো বলতে বলতে রাত ভোর করে দিয়েছি।
যান্ত্রিক বন্ধুদের সব কথা বলা হয় না। সব ব্যথার অংশীদারও করা হয় না। তাই সত্যিকারের বন্ধুদের আজও খুঁজি শেষ বিকেলের কোন চায়ের আড্ডায়। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্য অস্ত যাবার দৃশ্য দেখতে দেখতে। খুঁজি ব্যস্ততম জনপদে।
আজ থেকে আট বছর আগের কথা। ঢাকার শাহজাহান পুরে থাকতে ভালোবেসে ফেলি খন্দকার মাহমুদুল হক মিলনকে। দু’জনার মনের অনেক কথা ভাগাভাগি করেছি আমরা। জীবনের ব্যর্থতা-হতাশার গল্প বলে কাটিয়ে দিয়েছি রাত। একসাথে অনেক ঘুরেছি। শাহজাহান পুর থেকে হাটতে হাটতে চলে গেছি টি এস সি। শহীদ দিবসে গিয়েছি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। কত স্মৃতি আজ মনে পড়ে। কিন্তু সেই প্রিয় মানুষটি আজ কোথায় জানি না। তার বাড়ি ছিল রাজশাহী। তখন আমার ফোন ছিলনা। তবুও তার একটা নম্বর আমার ডায়রিতে লিখে রেখেছিলাম। কিন্তু সে নম্বরও এখন বন্ধ। তার বাসার ঠিকানাও ছিল। চিঠি দিয়েছি- তার কোন উত্তর পাইনি। আজো মনে পড়ে তাকে। এখন ফোনে- ফেইস বুকে কিংবা কর্মস্থলে এতো বন্ধু আমার। অথচ আজো তার শূন্যতা আমাকে গ্রাস করে। 
সুমনের একটা গানের কথা ঘুরে-ফিরে মনে আসে-`হঠাৎ রাস্তায় আপিস অঞ্চলে, হারিয়ে যাওয়া মুখ চমকে দিয়ে বলে - বন্ধু কী খবর বল? কতদিন দেখা হয়না।’ এমন একটা মুহূর্তের জন্য আমি আজও প্রতীক্ষায় থাকি। গলির মোড়ে কিংবা পার্কে হঠাৎ কেউ পিঠ চাপড়ে চমকে দিক। তাকিয়ে দেখবো শৈশবের কোন বন্ধু সহাস্যবদনে হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে বুকে টেনে নেওয়ার জন্য। কেবল ঘুরে-ফিরে দু:সময়ের বন্ধুদের কথাই মনে পড়ে। কারণ দু:সময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু। তাই অসংখ্য বন্ধুর ভিড়ে আজও মনে পড়ে পুরনো দিনের সেই চেনা মুখগুলো। যে মুখ থেকে একদিন উচ্চারিত হবেÑ বন্ধু কী খবর বল...?

সোমবার, ১৪ মে, ২০১২

‘দহন’ সম্পাদকের সুনীল সাহিত্য পুরস্কার লাভ


মেহেদী হাসান :
`দহন’র ( সাহিত্যপত্র) সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ ছোটগল্পের জন্য ‘সুনীল সাহিত্য পুরস্কার-২০১১’ লাভ করায় আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। এর আগে তিনি ২০০৬ ও ২০১০ সালেও উক্ত পুরস্কার লাভ করেন। সুনীল সাহিত্য পুরস্কার ট্রাস্ট, মাদারীপুর এ পুরস্কারের প্রবর্তণ করেন।


প্রেম নয় অমৃত

আদনীন ইভা সুমি

তিমিরাচ্ছন্ন রাতের বুক থেকে তুলে আনো স্নিগ্ধ প্রভাত,
বিকশিত প্রতিভায় যেন ফুটে ওঠে পুষ্প পারিজাত।
দেখতে চাই তোমার লেখনীর তেজদীপ্ত রশ্মি,
সেখান থেকে শুষে নেব জ্ঞানের অমৃত সুধা।
পুষ্পের মধুচোষা মধুকর নয়- জ্ঞান সাধকের মতো।

আমি কৃষ্ণ হয়েছি তোমার এক টুকরো কাব্য অমৃতের আশায়।
প্রতীক্ষার বিষাক্ত দাওয়ায় বসে আছি, প্রয়োজন নেই,
কোন প্রয়োজনের জন্য ছুটবো না কৃষ্ণ হয়ে রাধার পিছু।
কারণ দু’জনেই আজ ভিন্ন পথের পথিক।