সোমবার, ১৪ মে, ২০১২

ভালোবাসার প্রতিস্থাপন

- মাইনুল ইসলাম

শুনেছ, সবাই কি বলে, কি বলে?
তুমি নাকি হারিয়ে গেছ গহীন অরণ্যে
আমার জীবন থেকে।
তারা জানে না,
তুমি মিশে আছো আমার শিরা- উপশিরায়,
রক্তের হিমোগ্লোবিনে
আমার কলা-টিস্যুতেও যে শুধুই তুমি।
তা কি তারা বুঝবে বল, তুমিই বল?
তাদের কথা শুনে আমি নিশ্চুপ
কি কারনে থাকি?
কেন থাকবো না?
আমার শিরা-উপশিরা, কলা-টিস্যু
তাদের কথার জবাব দেয়।
তারা যখন জবাব শুনে ক্ষিপ্ত হয়
তখন হিমোগ্লোবিন ওদের ক্ষিপ্ততাকে
সুপ্ততায় পরিণত করে।

তুমি নাকি গহীন অরণ্যে নতুন সঙ্গী নিয়ে আছ।
তারা জানে না, আমি আছি তোমার শিরা-উপশিরায়,
আমারা ভালোবেসে কলা-টিস্যু স্থাপন করেছি।
তারা জানে না,
ভালোবাসার যোজন-বিয়োজন
তারা জানে না,
ভালোবাসা মানেই যোজন
তারা জানে না,
ভালোবাসার প্রতিস্থাপন।
আমাদের প্রতিস্থাপিত ভালোবাসা থাকবে আজীবন।

রবিবার, ১৩ মে, ২০১২

অধিকার চাই

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ :

প্রথম দৃশ্য :
মঞ্চের পেছনে চিৎকার চেঁচামেচি। দৌঁড়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসে ইভা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকে। এমন সময রাজুর প্রবেশ।
রাজু : কিরে ইভা, তুই রাস্তায় দাড়ায়া কান্তাছোস ক্যান?
ইভা : বাড়ির মালিক মাইরা বাইর কইরা দিছে।
রাজু : ক্যান? কি অন্যায় করছোস?
ইভা : হাতের তোন পইরা একটা প্লেট ভাইঙ্গা গ্যাছে। আমি কী ইচ্ছা কইরা ভাঙছি?
রাজু : কস কি? তারা বুঝি তোরে খুব মারে?
ইভা : হ, ওঠতে-বইতে সব সময়ই মারে।
রাজু : কস কি? এরা কি মানুষ না? তা এহন কি করবি? কই যাবি?
ইভা : কই যামু , কি করমু কিছুই জানিনা।
রাজু : চল, তোরে আমাগো বাাড়ি নিয়া যাই। আমাগো বাড়ি তেমন কাজ-কর্ম নাই। আমার তো কোন বোন নাই। তুই খালি মার লগে থাকবি। চিন্তা করিস না, আমার লগে স্কুলে যাবি। আমার বোনের মতো থাকবি। যাবি তুই?
ইভা : কি কস, তোর বাপ-মা কি আমারে রাখবো?
রাজু: হ, রাখবো। হেদিন হুনি মায় আব্বারে কইয়- যদি একটা মাইয়া পাইতাম তয় ভালো অইতো। কাম-কাইজ করা লাগবো না। খালি আমার লগে লগে থাকলেই     অইবো।
ইভা: (একটু ভেবে) হ, আমি যামু তোর লগে। খাড়া, জামা-কাপড় কয়ডা লইয়া আহি।
রাজু : ল, আমিও তোর লগে যামু। তাগো কইয়াই তোরে নিয়া যামু। ( উভয়ের প্রস্থান)

দ্বিতীয় দৃশ্য :
কারখানায় কাজ করতে করতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়ে অপু। দৌঁড়ে আসে জয় ও আকাশ। তুলে বসায়। পানি ছিটিয়ে জ্ঞান ফেরায়। কপালে হাত দিয়ে-
জয় : ইসরে, জ্বরে তোর গাও দি পুইরা যাইতাছে। কামে আইছোস ক্যান?
অপু : কামে না আইলে যে সবাই না খায়া থাকবো।
আকাশ : অষুধ খাইছোস?
অপু : না, টাহা আছিল না। মালিকরে কইছিলাম, কয় এহোন টাহা পাবি না। মাস গেলে একবারে দিমু। কইলাম, জ্বর আইছে। হে কয়, ইস্ ব্যাঙের আবার সর্দি।
জয়: হ, মালিকডা কেমন জানি চামার। মজুরীর টাহাই ঠিক মত দেয় না। আবার অষুধ কেনার টাহা দিব।
আকাশ: চল, তোরে গাড়িতে উডায়া দেই, বাড়ি যা গা।
অপু : না, হ্যালে একদিনের মজুরি কাইট্যা দিব। বাড়ি যামুনা। কষ্ট অইলেও কাম করতে অইবো। ঘরে একটা চাউলও নাই।
আকাশ : তাইলে এক কাম করি। আমার ধারে ২০ টাহা আছে। ( জয়কে লক্ষ করে) জয় তোর পকেটে কয় টাহা আছে?
জয় : আমার ধারে মাত্র ১০ টাহা আছে।
আকাশ: দে, আমরা টাহা দিয়া অর লেইগ্যা অষুধ কিইনা আনি। আমরা না হয় আইজ যাওয়ার সময় হাইটা যামু।
জয়: ( টাকা বের করে) নে, পারলে অপুর লেইগ্যা একটা কলা আর একটা রুটি আনিছ।ওতো দুপুরের খাওনও আনে নাই।
আকাশ : মালিক আহনের সময় অইয়া গেছে। আমি গেলাম , তুই অরে পিছনের গোডাউনে একটু শোয়ায়া মাথায় পানি দে।
অপু : না মালিক দেখলে বকাবকি করবো।
জয় : মালিক আইতে আইতে তোর জ্বর কইমা যাইবো। চল।
অপু : তয় চল। মালিক আইলে আমারে ইশারা দিস। ( উভয়ের প্রস্থান)

তৃতীয় দৃশ্য :
সাথী রাস্তায় কাগজ, বোতল ইত্যাদি কুড়ায়। এমন সময় রাজু ও ইভার প্রবেশ।
রাজু : কিরে সাথী, তুই দি এহন আর স্কুলে যাসনা । লেহা-পড়া বন্ধ করলি ক্যান?
সাথী: মোরা গরিব মানুষ। স্কুলে যামু ক্যামনে? বাপ নাই। মার অসুখ। অষুধ কেনার টাহা নাই। কাগজ-কলম কিনমু কেমনে?
ইভা : কাগজ-বোতল টোকায়া আর কত পাওয়া যায়?
সাথী : যা পাই। ল্যাহা-পড়া কি আমাগো লেইগ্যা? তুই না মাইনষের বাড়ি কাম করছ? তোরে স্কুলে যাইতে দেয়?
ইভা : তুই জানোস না, আমি এখন রাজু গো ঘরে থাকি। তারা আমারে মাইয়ার মত জানে।ভালো জায়গায় থাকি, ভালো কাপড় পড়ি, ভালো খাই, লেহা-পড়া করায়, অসুখ-বিসুখ অইলে অসুধ কিন্যা দেয়। মনে অয় নিজের বাড়ি।
সাথী : ইসসি রে, সবাই যদি এমন অইতো? তাইলে আমাগো মত অসহায় শিশুগো কোন কষ্টই থাকতো না।
রাজু : আচ্ছা, তুই কি জানোস না, ওয়ার্ল্ড ভিশন অসহায় শিশুগো সাহায্য করে?
সাথী : না, মুই তো এর আগে হুনি নাই।
ইভা: হ, বই-খাতা থেইকা শুরু কইরা অনেক সুযোগ সুবিধা দেয়।
সাথী : আমারে দিবো নি?
রাজু : দিবো না ক্যান? অবশ্যই দিবো। চল তোরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের শিশু ফোরামের সদস্য বানায়া দেই।
ইভা: হ চল, বাড়ি যাওয়ার আগে তোরে অপিসে নিয়া যামু।
সাথী : কোন অপিসে?
রাজু : আমাগো শিশু ফোরামের অপিসে। যেইডা আমাগো ভরসা। অসহায়, অবহেলিত, অধিকার বঞ্চিত শিশুদের একমাত্র আশ্রয়।
সাথী : হ, আমারও তো মানুষ। আমরাও বাঁচার মতো বাঁচতে চাই। আমরাও আমাগো অধিকার চাই।
ইভা : চল তাইলে। ( উভয়ের প্রস্থান)। পেছনে ‘আমরা করব জয়.....’ গানটি বেজে উঠবে। সবাই ফ্রিজ।

চাইছি তোমার বন্ধুতা...

অনন্ত সালু:
কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছি। হঠাৎ এক বালিকা এসে সামনে দাঁড়ালো। বয়স তের কি চৌদ্দ। সাথে ওর বয়সী একটি ছেলে। মোটামুটি পরিচিত। তবে তেমন কোন ঘনিষ্টতা ছিল না আগে। মেয়েটি বলল,‘তুমি কি আমার বন্ধু হবে?’ কিছুটা অবাক হলাম। এইটুকুন মেয়ে বলে কি? তবুও বললাম,‘আচ্ছা ঠিক আছে।’ ও বলল,‘তোমাকে বন্ধু দিবসের শুভেচ্ছা।’ হঠাৎ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। কি আর করা- হাতে ছিল ছোট্ট একটা বাতাবি লেবু। ওর হাতে দিয়ে বললাম,‘ছোট্ট বন্ধুকে এই ছোট্ট লেবুর শুভেচ্ছা।’ ও তাতেই মহা খুশি। ওরা হাসতে হাসতে চলে গেল।
পরদিন ওর সাথে থাকা ছেলেটার কাছে জানলাম, আমাকে নিয়ে ওদের মধ্যে বাজি হয়েছিল। ওদের ধারণা, আমি খুব গম্ভীর প্রকৃতির লোক। কেউ যদি আমাকে বন্ধু বানাতে পারে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। মেয়েটি বাজিতে জিতে গেল।
দু’দিন পর আবার দেখা। মেয়েটার হাতে একটা জবা ফুল। অনেক আশা নিয়ে ফুলটা চাইলাম। ও বলল, ‘এটা দেওয়া যাবে না। সবার হাতে ফুল মানায় না।’ আমি অপমান ও কষ্টে একবুক অভিমান নিয়ে চলে গেলাম। তারপর অনেক দিন কোন দেখা নেই।
হঠাৎ একদিন পাশে এসে দাঁড়িয়ে চমকে দিয়ে বলল,‘বন্ধু কী খবর?’ আমি অভিমানে মুখ ফিরিয়ে বললাম,‘আমার কোন বন্ধু নেই। তাছাড়া সবার সাথে বন্ধুত্ব মানায় না।’ মেয়েটা আমার কথায় কষ্ট পেল। ওর চাঁদের মতো মুখটা মুহূর্তেই ফ্যাকাশে হয়ে গেল। কিছুক্ষণ কারো মুখে কোন কথা নেই। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেয়েটা নি:শব্দে চলে গেল। ওর পথপানে তাকিয়ে কেমন যেন বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো। একটা অপরাধবোধ যেন গ্রাস করছে আমাকে। এ কেমন খেলায় মেতে উঠেছি আমরা।
পরদিন মেয়েটা এক বন্ধুর সাথে তার বাসায় যাচ্ছিল। পথ আগলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বললাম,‘গতকালের আচরণের জন্য আমি দু:খিত!’ ওর চোখ ভরে উঠলো জলে। কান্নাভেজা কন্ঠে বলল,‘দু:খিত আমার কোন বন্ধু নেই। আমি আপনাকে চিনিনা।’ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম। 
হতে পারে সে বাজি ধরেছিল। আসলেই কি আমি গম্ভীর প্রকৃতির? আমি কি কারো বন্ধু হতে পারি না। তাছাড়া বন্ধুর সাথে অভিমান হতেই পারে। তাই বলে কি একটা সম্পর্ক অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবে? তবে কি আমি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছি? কী এমন রহস্য লুকিয়েছিল ঐ ফুলে? ফুল দিতে না পারুক, তাই বলে কি কাঁটা দিয়ে তার প্রতিদান দিবে? আর কত বড় হবে অনুতপ্তের পাহাড়? এর শেষ কোথায়?
এক বছর গত হতে চলল। আর কোন কথা হয়নি সেই বালিকা বন্ধুর সাথে। হয়তো সে এখন বালিকা থেকে কিশোরী। একদিন কিশোরী থেকে যুবতী হবে। শেষে যুবতী থেকে বৃদ্ধা। তবুও তাকে বলবো, চাইছি তোমার বন্ধুতা...।

কালকিনি শিল্পকলা একাডেমি চলছে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর মতো

- সালাহ উদ্দিন মাহমুদ :

মানুষ স্বভাবতই বিনোদন প্রিয়। শত ব্যস্ততার মাঝেও তারা একটু বিনোদন খোঁজে। দুঃখের সাগরে ডুব দিয়েও সুখের মনি-মুক্তা আহরণ করতে চায়। এটা মানুষের চিরন্তন ধারা। আপামর মানুষের বিনোদন আকাঙ্খা নিবারণ করতে একদল মানুষ ‘নিজের খেয়ে বনের মেষ তাড়ানো’র মতো বিনোদন দিতে দিনরাত খেটে মরে। স্বার্থকতা এইÑ মনের ক্ষুধা মেটে।
মানুষের ক্ষুধা তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়। এক. পেটের ক্ষুধা দুই. দেহের ক্ষুধা তিন. মনের ক্ষুধা। পেটের ক্ষুধার জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম, দেহের ক্ষুধার জন্য প্রয়োজন সঙ্গম আর মনের ক্ষুধার জন্য প্রয়োজন বিনোদন।
বিনোদনের জন্যই গড়ে তুলতে হয় শিল্পকলা। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডই আবহমান বাঙলার বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। এই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডকে প্রস্ফুটিত করতে তৎকালীন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছিলেন কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ খালেকুজ্জামানসহ অনেকেই। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠল একটি প্রতিষ্ঠান।
যখন স্থানাভাব দেখা দিল- সর্বসম্মতিক্রমে সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের লাইব্রেরি ভবনের মিলায়তন হলো এর অস্থায়ী কার্যালয়। সেখানে থাকতে হলো না বেশি দিন। স্থানান্তর করা হলো উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার ৫ টি বিভাগ নিয়ে চলতে থাকে এর কার্যক্রম।
দেখতে দেখতে দাতা সদস্য ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, কালকিনি এডিপি’র আর্থিক সহায়তায় উপজেলার কাঁঠাল তলায় তোলা হলো নতুন ভবন। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিনের তৎপরতায় ভাল একটি অবস্থানে চলে এলো কালকিনি শিল্পকলা একাডেমি ।
কিন্তু ‘অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’ হওয়ার মতো হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়লো একাডেমির কার্যক্রম। পরিচালনা পরিষদের অন্তর্দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক সংকটসহ নানাবিধ কারনে দিনদিন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর মত চলছে প্রতিষ্ঠানটি। হতাশ হয়ে পড়লো বিনোদন প্রিয় মানুষগুলো।
একাডেমির বর্তমান অবস্থা বড়ই নাজুক। নৃত্য, সংগীত, চিত্রকলা, আবৃত্তি ও নাট্যকলা বিভাগ থাকলেও নৃত্য, সংগীত, চিত্রকলা চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। আবৃত্তি ও নাট্যকলা রয়েছে নিষ্ক্রিয়। যে তিনটি বিভাগ চালু আছে তাতে আবার দক্ষ প্রশিক্ষক না থাকায় আগ্রহ হারাতে বসেছে  শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে স্বজনপ্রীতির অভিযোগেও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে অনেকে। একাডেমির বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫০ জনের মতো। সবাই শিশু; যেন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ নিষেধ। অনেকটা শিশু একাডেমির মতো। মাঝে মাঝে বিভ্রম হয় যে, এটা কি শিল্পকলা একাডেমি না শিশু একাডমি। সে যাই হোক, এখানে প্রশিক্ষক রয়েছেন তিন জন। সংগীতে সীমা সাহা ও মিলন বড়াল আর চিত্রকলায় আনোয়ার হোসেন। এদের সম্মানী ভাতা কম হওয়ায় কাজের প্রতি দরদও কম। এখানে কেয়ারটেকার ও প্রশিক্ষকের ভাতা সমান বলে অনেকের আত্মমর্যাদায় আঘাত হানে। এছাড়া প্রশিক্ষকদের চার - পাঁচ মাসের ভাতাও বকেয়া রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তারা।
এখন কথা হচ্ছে- সবকিছুর মূলে অর্থনৈতিক দৈন্যদশা। সাদামাঠাভাবে ‘ওঠ ছুড়ি তোর বিয়ে’ বলে চালাতে  হচ্ছে অনুষ্ঠান। দিনদিন শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ হারাতে বসেছে সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। এভাবে চলতে থাকলে একসময় মানুষ বিনোদনবিমুখ হয়ে পড়বে। আস্থা হারাবে শিল্প- সংস্কৃতির ওপর। এখনই সময় ঘুরে দাঁড়াবার। হারিয়ে যাওয়া যৌবন ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন মানসিক শক্তি। সঠিক পরিচর্যাই দূর করতে পারে পক্ষাঘাত সমস্যা।
একটু আন্তরিকতা, উদার মানসিকতা ও পরিষ‹ার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে কালকিনি শিল্পকলা একাডেমির বর্তমান চেহারা। মুখ ফেড়ানো মানুগুলোকে টেনে আনতে পারে বটতলা, হাটখোলা ও নবান্ন উৎসবে কিংবা বর্ষবরণে। ‘এসো মিলি সৃষ্টির মোহনায়, গড়ে তুলি সুন্দর আগামী’-এই হোক আমাদের দীপ্ত শপথ।
সালাহ উদ্দিন মাহমুদ,
লেখক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতি কর্মী

অন্ধকার

- বিমূর্ত প্রত্যয়

আমি কোথাও কোন আলো দেখিনি-
দেখেছি-
দুর্গন্ধময় ড্রেনে জারজ শিশুর কান্না।
দেখেছি -
মানুষ রূপী নরপিশাচের শিকারী
দুর্বল নারীর অসহায়ত্ব।
দেখেছি -
রাস্তার পাশে বস্ত্রহীন এক পাগলীকে।
দেখেছি -
স্বার্থান্বেষী সমাজের অবিচার।
দেখেছি -
নিঃস্ব জীবনের দিশেহারা চিত্র।
দেখিনি -
কোথাও কোন মনুষ্যত্বের আলো।
অন্ধকার....অন্ধকার...অন্ধকার দেখেছি।

শনিবার, ১২ মে, ২০১২

বৃষ্টির সাথে সন্ধি

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

রিম ঝিম ঝিম বৃষ্টি ঝরে
টিনের চালে ঐ,
মেঘ ডাকে গারুম-গুরুম
ডাঙায় ওঠে কৈ।
   
খাল-বিল জলে থৈ থৈ
নদী ডাকে বান,
তাই দেখে খোকা-খুকুর
নেচে ওঠে প্রাণ।

রিম ঝিম ঝিম বৃষ্টি ঝরে
বর্ষা এলো ঐ,
বিলে ফোঁটে শাপলা-শালুক
খোকা-খুকু কই?

খোকা-খুকু বদ্ধ ঘরে
করছে বসে ফন্দি,
বাবা-মা আড়াল হলে
হয়ে যাবে সন্ধি।

কালকিনি প্রবাহ

- আকন মোশাররফ হোসেন
(পূর্ব প্রকাশের পর)
বিলুপ্ত হয়ে গেছে এখানকার খরস্রোতা নদী-নালা। টেংরা নদী, রাজমনী নদী ও গজারিয়া নদী এখনো নদী নামের স্মারক বহন করে আছে। তবে ডাকের চর নদী ও গজারিয়া নদী শত বছর পর্যন্ত নামের স্বার্থকতা বহন করে এখন শুধু গজারিয়া ও ডাকের চর খাল ক্ষীণাবস্থায় বয়ে চলেছে। এই দুটি খালই বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে রয়েছে।
রাজমনী নদী পালরদী নদীর ঠাকুর বাড়ি থেকে উৎপত্তি হয়ে শিকারমঙ্গল ও এনায়েত নগর ইউনিয়নের ভেতর দিয়ে আঁকা-বাঁকা বয়ে গেছে ভবানীপুর ও মৃধা কান্দির নিকট আড়িয়াল খা নদীতে পতিত হয়েছে। এই নদী এখন শুধুই ঠাকুর বাড়ি, সমিতির হাট, মিয়ার হাট খাল।
কথিত আছে যে, জমিদার রাজ মহন দাসের বাড়ির নিকট দিয়ে প্রবাহিত বলে রাজমনি নদীর নাম পত্তন ঘটেছিল। অপর একটি বেশি দৈর্ঘ খাল যেখানে বর্ষায় দুর্গাপুজা উৎসবে নৌকা বাইচের জন্য বিখ্যাত ছিল। এই খালটি মাদারীপুর সদর থানার ঘটকচর - মস্তফাপুর কুমার নদী থেকে ডাসার, কাজী বাকাই, গোপালপুর ও বর্তমান কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ-পশ্চিম খাঞ্জাপুর সীমানা দিয়ে ঝুরগাও বাজারের পশ্চিমপাড়ে মাইড্যাল খেয়াঘাটের নিকট পালরদী নদীতে উপনিত হয়েছে। এই খালটির নাম আমানতগঞ্জ খাল। কাল প্রবাহে এখন খাল নামেই পরিচিত। তবে এই খাল সমুহের যৌবনে পালরদী ও কুমার নদীর মতোই খরস্রোত ছিল।
অপর একটি খাল শরীয়তপুর জেলার পট্টি বাজারের পদ্মা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে নাগের পাড়া, খাসের হাট, কাচারী বাজার, আকাল বরিশ হয়ে আড়িয়াল খাঁ নদীতে মিলিত হয়েছে। এই খালটি যৌবনে টেংরা নদী নামে পরিচিত ছিল। এই টেংরা নদী দিয়ে এক সময় নারায়নগঞ্জ, ঢাকা, চাঁদপুর থেকে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী জাহাজ ও স্টিমার আড়িয়াল খা নদী ও কুমার নদী হয়ে কোলকাতা যেত এবং আসতো। ইংরেজ আমলে ১৮০০ সালের শেষ দিকে টেংরা নদীর ভাঙণে নদীর দুই পাড়ের লোকজন গৃহহীন হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে দেখা দেয় চরম দুর্ভিক্ষ।
তখন ইংরেজ শাসক নদীর দুই পাড়ের অসহায় মানুষের জন্য আশ্রয় শিবির তৈরি করে তাদের পুণর্বাসনের ব্যবস্থা করে। এই শিবিরের খাদ্যসামগ্রী টেংরা নদী দিয়ে কোলকাতা থেকে জাহাজ-স্টীমার যোগে আসতো। এই নদী পাড়ের আশ্রয় শিবিরের লোকদের আকালী বলা হতো। সেই থেকে নদীর দুই পাড়ের মৌজার নাম আকাল বরিশ নামে পরিচিত। পরবর্তী কালে ভূমি জরিপে উত্তর ও দক্ষিণ আকাল বরিশ রাখা হয়।

(চলবে)   

মাদারীপুরের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা অবলম্বনে ‘একটাই চাওয়া’

আ জ ম কামাল :
‘স্বাধীনতার ৪০ বছর ও শিল্পের আলোয় মহান মুক্তিযুদ্ধ’- স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর এ মহতী আয়োজনের জন্য শিল্পকলা একাডেমীর মহা পরিচালক লিয়াকত আলী লাকীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। সাথে সাথে জেলা শিল্পকলা একাডেমী, মাদারীপুরের যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি ও সদস্য সচিবসহ সবার প্রতি আমি চির কৃতজ্ঞ। এছাড়া নাটকের প্রাণ মাদারীপুর সরকারি নাজিমুদ্দিন কলেজ ও কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে কলেজ পর্যায়ের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ‘একটাই চাওয়া’ মঞ্চস্থ করতে পেরে আমি আনন্দিত ।
গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় মাদারীপুরের স্বাধীনতা অঙ্গনের মুক্তমঞ্চে ও গত ৫ মে ফরিদপুর শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ‘একটাই চাওয়া’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকে আমীরন চরিত্রে মাহমুদা খান লিটা ও ঝুমা, রফিক চরিত্রে সাজ্জাদ হোসেন, সাজু চরিত্রে লুবনা জাহান নিপা, বয়াতি চরিত্রে আমি আজিজুল ইসলাাম স্বপন, বাদল চরিত্রে সালাহ উদ্দিন মাহমুদ, মানিক চরিত্রে বি এ কে মামুন ও আশিষ রায়, রফিকের মা চরিত্রে শাকিলা আক্তার, ওয়াজেদ আলী চরিত্রে নাহিদুল ইসলাম মুকুল, কেতর আলী চরিত্রে সঞ্জীব তালুকদার, মেজর চরিত্রে শান্ত কুমার, মুক্তিযোদ্ধা চরিত্রে মৃণাল কান্তি বালা , বাচ্চুর বাবা চরিত্রে নির্মল মন্ডল নিলয়, পাক হানাদার চরিত্রে মাইনুল ইসলাম ও সাইদুল ইসলামের অভিনয় দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।
মাদারীপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে সুতীক্ষè মেধা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ‘একটাই চাওয়া’ নাটকটি রচনা করেন আজিজুল ইসলাম স্বপন। তার রচনার ক্ষেত্রে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নাটক বিভাগের ছাত্র সালাহ উদ্দিন মাহমুদ অনেক পরিশ্রম করে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সংলাপ সংশোধনের মাধ্যমে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে নাটকটিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাদের সমন্বয়ে আমি নাট্য প্রশিক্ষক আ জ ম কামাল নির্দেশনার দায়িত্ব নিয়ে নাটকটিকে প্রাণবন্ত করার চেষ্টা করেছি। এছাড়া বিভিন্নভাবে যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মাদারীপুর জেলায় ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনা ফুটে উঠেছে ‘ একটাই চাওয়া’ নাটকে। সোলেমান বয়াতির সংসারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যেতে থাকে নাটকের কাহিনী। সোলেমান বয়াতীর স্ত্রী আমিরনের সম্ভ্রম হারানো। পাক হানাদারের নির্যাতনে সাজুর মৃত্যু। যুদ্ধে গিয়ে শেষ অবধি রফিকের ফিরে না আসা। কিশোর বাচ্চুর যুদ্ধে অংশগ্রহণ। রাজাকার ওয়াজেদ আলী ও কেতর আলীর কুদৃষ্টি একাত্তরের পৈশাচিক দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছে। সুফিয়া, বেনু, পান্না ও নুরুল ইসলামের আত্মত্যাগ দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। সবশেষে বাচ্চুর বাবা, বয়াতী, বাদল ও মানিকের কন্ঠে দৃঢ়তার সাথে উচ্চারিত হয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি। অভিনেতাদের সাথে সাথে দর্শকরাও গর্জে ওঠে।

আ জ ম কামাল
নির্দেশক,
একটাই চাওয়া,
জেলা শিল্পকলা একাডেমী, মাদারীপুর।

সুখ-দুঃখ

-কৃষ্ণকলি

ছোট ছোট কষ্ট বড় কষ্টে পরিণত হয়,
যখন সে বলে মুক্তি দেব তোমায়।
বিন্দু বিন্দু জল মিলে ঝর্ণা হয়,
যখন সে বলে ভালোবাসিনা তোমায়।
একটু একটু হাসি অনেক আনন্দে পরিণত হয়,
যখন সে বলে বকবোনা তোমায়।
ছোট ছোট সুখ বড় সুখে পরিনত হয়,
যখন সে বলে ঠকাবো না তোমায়।
-‘ভয় পেও না আমি আছি না!’
-‘ তুমি আছ বলেই ভয় হয়।’

নিজেকে অচেনা লাগে

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ

আমি আয়নায় নিজের মুখ দেখি-
নিজেকে নিজের কাছে অচেনা লাগে,
আঁৎকে উঠি ভয়াবহতা দেখে।

চোখ দু’টি মনে হয় আমার নয়,
ও চোখে কার যেন ছাঁয়া পড়েছে।
কপালে কার যেন দুঃখের তিলক,
তাকিয়ে থাকি অপলক।

ও মুখ বড়ই বিকৃত- অসুন্দর,
হিংস্রতা আর কামের খিস্তি-খেউর।
জিহ্বা সর্বদাই থাকে লালায়িত।

নিজেকে নিজের কাছে অচেনা লাগে,
সক্রেতিসকে প্রশ্ন করি বারে বারে
নিজেকে চিনবো কী প্রকারে?
সদুত্তর মেলে না কস্মিনকালে....।
কালকিনি, মাদারীপুর।

আমরা তোমাকে ভুলবো না

সালাহ উদ্দিন মাহমুদ:
যাদের আত্মত্যাগে আমাদের প্রিয় স্বদেশ আজ স্বাধীন। আমরা তাদের কতটুকু সম্মান করতে পেরেছি। এ প্রশ্ন সবার কাছে। কেননা স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পরও শহীদ এম নুরুল ইসলামের কোন স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে ওঠেনি তাঁর পৈত্রিক বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার বাঁশগাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশগাড়ী( পরিপত্তর) গ্রামে। বর্তমান প্রজন্ম ভুলতে বসেছে তাঁর নাম। স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা সড়কের নামকরণ করা হয়নি তাঁর নামে। এমনকি ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু দিনেও স্মরণ করতে পারিনি তাঁকে। তবেকি আমরা তাঁকে ভুলতে বসেছি?
উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে পরিপত্তর গ্রামে গিয়ে কথা হয় শহীদ বীর বিক্রমের ভাই মুক্তিযোদ্ধা আঃ কুদ্দুস শিকদারের সাথে। ভাইয়ের স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে কান্না ভেজা কন্ঠে জানান অনেক অজানা কথা। তাঁরা চার ভাই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এক ভাই শহীদ হয়েছেন। তাদের বাবার নাম লাল মিয়া শিকদার। মা জহুরা বেগম।
শহীদ বীর বিক্রম এম নুরুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন। স্ত্রীর নাম ফাতেমা বেগম। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে। শহীদ এম নুরুল ইসলাম চাকরি করতেন ইপিআরে। ১৯৭১ সালে কর্মরত ছিলেন পিলখানা ইপিআর হাসপাতালে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াবহ কালোরাতে পিলখানা ইপিআর হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বোরোচিত হামলার একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী। পাকিস্তানী হাবিলদার শফি তাকে আক্রমন করে। তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে কৌশলে পাকিস্তানী হাবিলদারকে আটক করে রাইফেলটি কেড়ে নেন। হাবিলদার শফিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হামাগুড়ি দিয়ে ময়লার ড্রেনে ডুকে পড়েন। হানাদার বাহিনী টের পেয়ে ড্রেনের মুখে গুলি চালায়। নুরুল ইসলাম ড্রেনের ভেতর দিয়ে পিলখানার এক নম্বর গেটের কাছে এসে পাহাড়ারত পাকিস্তানি সৈনিকদের মুভমেন্ট লক্ষ্য করে ড্রেন থেকে বের হয়ে বাঙ্গালী ডাঃ মেজর এমএ রশিদের বাসায় পৌঁছান। এমএ রশিদের পরামর্শে আত্মরক্ষার্থে পাক হাবিলদার শফিকে ছেড়ে দেন।
নুরুল ইসলামের অপর সহদর পাকিস্তান সেনা সদস্য সিরাজুল হক শিকদার । তিনি করাচি যাওয়ার জন্য ঢাকা ক্যান্টনম্যান্ট ট্রানজিট ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাকে কৌশলে বের করে আনেন। এবং অপর সহদর এসএম আবু তাহেরকে হাজারিবাগ থেকে এনে নারায়ণগঞ্জ টার্মিনালে পৌঁছান। সেখানে কয়েকশত নির্যাতিত ও আশ্রয়হীন মানুষকে সাথে নিয়ে নাটকীয়ভাবে একটি স্টিমার দখল করে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। চালকের অভাবে নিজেই স্টিমার চালানোর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু জ্বালানির অভাবে শরীয়তপুর জেলার গোসাইর হাট উপজেলার পট্টি ঘাটে স্টিমার থামান। বাঙালীদের স্টিমার দেখে সেখানে লোক জড়ো হতে থাকলে তিনি সবার উদ্দেশ্যে ঢাকার গণহত্যার বিবরণ দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের আহ্বানে যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ডাক দেন।
পরে নিজের এলাকায় এসে মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের চেয়ারম্যান কর্ণেল শওকত আলীর সহায়তায় সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য সীমান্ত এলাকায় চলে যান। সেখানে এ্যাডভোকেট মতিউর রহমানের সহায়তায় যুদ্ধ চালিয়ে চান। এসময় তিনি ৯নং সেক্টর কমান্ডার মেজর এমএ জলিল, ফ্লাইট সার্জেন্ট মোঃ ফজলুল হক, মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস আহমেদ, মেজর এম শাজাহান ওমর বীর উত্তম ও মেজর জেনারেল এএসএম নাসিম বীর বিক্রমের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। কিছুদিন পর সীমান্ত এলাকা ছেড়ে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ ঘাট এলাকায় এসে পাক সেনাদের সাথে যুদ্ধ করে গানবোট ডুবিয়ে দেন। এপ্রিল মাসে বরিশালের শিকারপুর এলাকায় নয় নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর এমএ জলিলের পরামর্শে বিশেষ অপারেশনে প্রায় পঞ্চাশ জন পাকসেনাকে হত্যা করেন। এবং সেখানে কিছুদিন অসুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা প্রদান করেন। ৩০ জুলাই সংগীয় ফোর্স নিয়ে শ্রীপুর বিওপি দখল করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর অপারেশন চালিয়ে খুলনার পারুলিয়া ব্রীজ ধবংস করেন। ১৯ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরের সিএনবি এলাকায় পাক আর্মি অ্যাম্বুশ করলে তার পরিচালনায় বিশ জন রাজাকার, তিন জন পাক আর্মি হত্যা করেন। এ সময় আট জন রাজাকার আটক, সাতটি রাইফেল ও কয়েক বাক্স গুলি উদ্ধার করেন।
সবশেষে ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা- বরিশাল সড়কে পাকবাহিনীর যাতায়াতে বিঘœ ঘটানোর জন্য কালকিনির গোপালপুর ব্রীজে মাইন বিস্ফোরণ শেষে ফেরার পথে রাজাকার ও পাক আর্মির আক্রমণে বুলেট বিদ্ধ হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। কিন্তু তার লাশ কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মুক্তিযুদ্ধে সাহস ও বীরত্ব প্রদর্শণের জন্য শহীদ এম নুরুল ইসলামকে মরণোত্তর বীর বিক্রম খেতাবে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট অনুযায়ি তাঁর বীরত্বভূষণ সনদ নম্বর ১০৪। এসব এখন কেবলি ইতিহাস। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও তাঁকে স্মরণ করে রাখার মত কোন স্তম্ভ বা স্থাপনা তৈরি হয়নি। নিজ একালায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন স্থাপনার নামকরণও করা হয়নি তাঁর নামে। শুধু গত ৯ এপ্রিল সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন খাসের হাট-পরিপত্তর সড়কটি তাঁর নামে নামকরণ করেন। এলাকাবাসীর দাবি প্রস্তাবিত আড়িয়াল খাঁ সেতুর নামকরণ তার নামে করা হোক।
শহীদ এম নুরুল ইসলামের ছেলে কাওছার আহমেদ বলেন,‘দেশের স্বাধীনতার জন্য আমার বাবা জীবন উৎসর্গ করেছেন। এজন্য আমি গর্বিত। আমার বাবা শহীদ হওয়ার পর আমাকে ও আমার বোনকে আমার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক শিকদারই লালন পালন করেছেন। আমাদের পুরো পরিবার মুক্তিযুদ্ধ করেছে। আমার চাচারাও বীর মুক্তিযোদ্ধা। এটা আমার জন্য বড় ধরণের প্রাপ্তি।’

শুক্রবার, ১১ মে, ২০১২

কালকিনি প্রবাহ

-আকন মোশাররফ হোসেন
( পূর্ব প্রকাশের পর)
জালালপুর বা ইদিলপুর পরগোনার মুল মৌজার নাম লক্ষ্মীপুর। ‘দামুসা মেলা’র প্রায় এক বর্গমাইল আয়তনের জায়গা ছিল। বর্তমানে জনবসতিপূর্ণ ও চাষাবাদের ফলে ‘দামুসা মেলা’র জায়গা ক্ষীণ হয়ে আছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ঐ এলাকার আর.এস এবং এস.এ কোন জরিপেই জরিপ হয় নাই।
জমিদার ভগোলা সুন্দরীর নামে এখনও তপসিল ভুক্ত আছে। বর্তমান বি.আর.এস জরিপে ‘দামুসা মেলা’র জমিটি পতিত আছে। আর বাকি জমি দখলদার এলাকাবাসীর নামে জরিপ করা হয়েছে।
কালকিনি থানা একটি পরিবর্তিত নাম। মাদারীপুর মহকুমার উজানে পদ্মা নদী আর দক্ষিণে মেঘনা নদীর মধ্যস্থল ভাগের সংযোগ রক্ষাকারী আড়িয়াল খাঁ নদী। কালকিনি থানার ভৌগোলিক অবস্থানে এ অঞ্চলের ভূ-গঠনে প্রবাহিত নদীগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালকিনি থানার ভূ-ভাগের মধ্য দিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদী, পালরদী নদী, গজারিয়া নদী, কাচিকাঁটা-তুলাতলা নদী, øানঘাটা নদী ( ছোট গাঙ) এবং টেংরা নদীর সিকস্তি ও চরাঞ্চল এলাকায় বেলে মাটির আধিক্য অত্যন্ত বেশি।
তবে এ উপজেলার আবাসযোগ্য জমির জনবসতি খুব প্রাচীন নয়। হাজার বছরের ভূ-গঠন প্রক্রিয়ায় চলছে প্রকৃতির বিচিত্র লীলায় লীলায়িত ভাঙ্গা-গড়ার বিচিত্র অভিজ্ঞতায় বিকশিত এক বিস্ময়কর ঐতিহ্যের স্মারক। ভূ-প্রকৃতি নিয়ত: ভাঙ্গা-গড়ায় এ এলাকার পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চলে জনজীবনে সুগভীর প্রভাব বিস্তার করে আছে। এখানকার মানুষ সিংহশার্দুল, সংগ্রামী। কখনও শান্ত- সৌম্য- সংযমী। কঠোরতা-কোমলতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণে পল্লবিত এখানকার গণমানুষ কালকিনি থানা বা উপজেলার পশ্চিম-উত্তর অঞ্চলের স্থলভাগ ও জনবসতি অনেকটা একেবারেই স্থিতিশীল। এবং প্রাচীনত্বের দাবিদার।
তবে পূর্বাঞ্চলের লক্ষ্মীপুর, বাঁশগাড়ী, চর দৌলত খান, চর সাহেবরাম পুর, রমজান পুর, শিকার মঙ্গল ও এনায়েত নগরসহ পালরদী নদীর পশ্চিম পাড় এলাকা এক সময়ে গভীর জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। বাঘ, ভালুক, চিতাবাঘ, মহিষ, বানর ও শুকরের আস্তানা ছিল এই কালকিনির অঞ্চলে। ১৭৯২ সালে বাঘ শিকারের জন্য সরকারিভাবে পুরস্কৃত করা হতো। বিষয়টি এখনো কথিত আছে। ১৮৭৫ সাল পর্যন্ত শীত মৌসুমে ঘোসের হাট, শেওলাপট্টি এবং পূর্বাঞ্চলের গজারিয়া ও টেংরা নদীর উভয় অঞ্চলের বনভূমিতে মহিষের সমাগম ছিল। সে সময়ে শখ করে মানুষ ঘোড়া লালন-পালন করত। নিজের বাহন হিসাবে ব্যবহার করতো। একটু সৌখিন মেজাজের মানুষেরা ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত করতো। ১৯২৬ সালে øানঘাটা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর মুলাদীর ছফিপুরের মাওলানা আঃ মাজেদ নিয়মিত ঘোড়ায় চড়ে মাদ্রাসায় আসতেন। এছাড়া ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পুর্বে ও  পরেও ১৯৭৩/৭৪ সাল পর্যন্ত পাঙ্গাশিয়া ও শেওলাপট্টির জঙ্গলে শুকর ও বানর- হনুমান দেখা যেত। বর্তমানে এ প্রজাতিগুলো এখন বিলুপ্ত। (চলবে)

প্রবন্ধ: উন্নত জাতি গঠনে ভিক্ষাবৃত্তি একটি সামাজিক ব্যাধি

জাহিদ হাসান
 বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। অধিকাংশ লোক দরিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। জনসংখ্যা অনুযায়ী দিন দিন বেকারত্বের সংখ্যা বেড়ে চলছে জ্যামিতিক হারে যা জাতির উন্নয়নের পথে বড় ধরনের বাধা হিসেবে কাজ করে। তাই মানুষ জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য নানা ধরনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে অনেক নীতি গর্হিত কর্মকান্ড, ধনী শ্রেণীর নিপীড়ন যেমন রয়েছে তেমন রয়েছে দরিদ্র মানুষের নিত্য দিনের আহাজারি। হতদরিদ্র নিঃস্ব মানুষগুলো বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তিকে বেছে নেয়। অন্যদিকে সুস্থ সবল মানুষ ছদ্মবেশে ভিক্ষা করে বড় অংকের টাকা সঞ্চয় করে রাতারাতির বাড়ি গাড়ীর মালিক হয়ে যাচ্ছেন।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ঢাকার শহরে ভিক্ষা করে বাড়ি করেছেন এমন ঘটনা বাস্তবে রয়েছে। প্রথমে শখের বশে বা সুকৌশলে জীবিকার জন্য ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করলেও পরে ভালো আয় হওয়াতে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। বাংলাদেশে মোট জনসখ্যা ১৬ কোটি তাই যারা ভিক্ষা করেন তারা হিসেব করে ১ লক্ষ লোক ১ টাকা করে দিলে কত দিন লাগে টাকার মালিক হতে। অন্ধ, খোড়া, বিকলাঙ্গ, প্রতিবন্ধী অল্প বয়সী বা বয়স্ক মানুষদের অপহরণ করে বা অল্প অর্থে ক্রয় করে দালালরা বিভিন্ন যায়গায় বসিয়ে দেয়। দালালদের কথা মতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে, মসজিদের সামনে, লোকালয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি স্থানে জীর্ণ, শীর্ণ সাজসজ্জা এবং ভিক্ষা চাওয়ার বাচন ভঙ্গি শিখিয়ে দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে দালাল বা ভিক্ষাবৃত্তির মস্তান চক্র খুবই অমানবিক আচরণ করে থাকে।
বাংলাদেশে এমনও ভিক্ষুক নেতা বা সর্দার আছেন তার অধীনে ১০/২০ জন ভিক্ষুক একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ভিক্ষা করেন। সারা দিন ভিক্ষা করে যা পান তার সিংহ ভাগ নিয়ে যায় নেতারা আর যথা সামান্য পায় ভিক্ষুকরা। এতে করেন খুব সহজে মোটা অংকের টাকা উর্পাজন করছে বিনা পরিশ্রমে। আমাদের দেশের রন্দ্রে রন্দ্রে দূর্নীতি গ্রাস করার ফলে এবং সবর্ত্র স্বজন প্রীতির কারনে ধনীরা আরো ধনী আর গরীব মানুষেরা দিন দিন দারিদ্র থেকে দারিদ্র সীমার নিচে চলে যাচ্ছে। যার ফলে অসহায় মানুষ নিরুপায় হয়ে ভিক্ষাবৃত্তির মতো আপত্তিকর পেশা বেছে নিচ্ছে। অভাবের কারনে, মসজিদ বা মাদ্রাসা নির্মাণের কথা বলে, শখের বশে বা ছদ্মবেশে ভিক্ষা করা বা দল নেতা হওয়া সবই ভিক্ষাবৃত্তির মধ্যে পড়ে। মানুষের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ধর্মকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে মসজিদের পাশে (জুমার দিনে) , ঈদের জামাতের পাশে, মাজার সংলগ্ন এলাকায়, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশে পাশে ভিক্ষা করার প্রবনতা বেশী দেখা যায়। বাংলাদেশে যতগুলো সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান তার মধ্যে ভিক্ষাবৃত্তি অন্যতম। সরকার বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা যদি এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন না করেন তাহলে সময়ের পালাক্রমে এ সমস্যা সমাজে প্রকট আকার ধারন করবে যা সভ্য জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরী করবে। একটি উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে হলে সবাইকে কর্মঠ হতে হবে। আমরা অহরহ ধর্মের দোহাই দিয়ে থাকি কিন্তু আমাদের ইসলাম ধর্ম কত কঠোরভাবে ভিক্ষাবৃত্তি নিষেধ করেছেন তা মেনে চলি না। ১৬০১ সালে ইংল্যান্ডে ভিক্ষাবৃত্তি চরম আকার ধারণ করেছিল তখন রানী এলিজাবেধ শক্ত হাতে সেদিন ভিক্ষাবৃত্তি নির্মুল করার কারনে আজকে যুক্তরাজ্য উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাড়াতে পেরেছে। ভিক্ষাবৃত্তি যে কোন জাতির কাছে একটি লজ্জাজনক বিষয়। আমাদের দেশে ভিক্ষাবৃত্তি একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে রুপ লাভ করেছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এ অবস্থার উন্নয়ন করা দরকার। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে এই বিশ্বায়নের যুগে কোনো ভাবেই ভিক্ষাবৃত্তি কাম্য নয়। ভিক্ষাবৃত্তির ফলে জাতি দিন দিন অলস হয়ে যাচ্ছে যার ফলে আমাদের জনশক্তি কাজে লাগছে না। জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বের বুকে অনেক পিছনে পড়ে আছি। সুতরাং ভিক্ষাবৃত্তি জাতির জন্য অভিশাপ বয়ে আনছে। একটি উন্নত জাতি গঠনের ক্ষেত্রে ভিক্ষাবৃত্তি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। তাই এখনই সমাজ থেকেই ভিক্ষাবৃত্তির মূলৎপাটন করতে হবে।
লেখক- নির্বাহী সম্পাদক,সাপ্তাহিক কালকিনি।

কবি

রোহিনী কান্ত রায়

কল্পপ্রিয় একটি প্রাণী কবি,
ঘরে বসে বসে কি অবলিলায় দুনিয়া চষে বেড়ায়
তুমুল সাওয়ারী হয়ে আলোকিত সব শব্দ ডানায়
সীমার প্রাচীর দেখেনি কোনদিন তার অবারিত পদরেখায়।

কল্পাশ্রয়ী জীব কবি
যতটুকু না দেখেছে নিজে
তারি সহস্রগুণ বেশি দেখিয়েছে পরম বিশ্বস্ততায়
চেতনার অনুভবে তার মুগ্ধ ভক্তকে।
দেখ, দেখ কি সহজে যুক্তিতর্কের জাল কেটে, কার্যকারণ
সম্পর্ককে ভীষণ ডিঙিয়ে এখনো ( বিজ্ঞানমনস্ক যুগ) বিশ্বসের
বীজ বুনে চলে মানুষের পাথর মনে- ইনিয়ে বিনিয়ে বলা কথায়
নিজে যা কোনদিন দেখেনি তাই  লেখে
অথবা লিখেও নিজেই বোঝেনি কোনদিন তার মানে-
তবুও কৌতুহল বাড়ে মানুষের তার প্রতি
তবুও কংক্রিট ভেঙে বিশ্বাসের ঢল নামে অতি, তার প্রতি
কি অদ্ভুত ঈশ্বর অনুমোদিত এক জীব
‘‘ কবি যা রচে তাই সত্য
ঘটে যা তার সব সত্য নয়।”

কবির মুখে স্বীয় স্তুতি শোনার জন্য স্বর্গের দেবতা সব
উন্মুখ হয়ে আছে, দেবতা জানে তার মানে
অমৃত পান করে দেবতা যে টুকু অমরত্ব পেয়েছে
তারি চেয়ে বেশি অমরত্ব লভেছে মর্তের
কোন কোন মানুষ কবির স্তুতি গানে।

জলঢাকা, নীলফামারী।

কালকিনির নাট্যাঙ্গনে আলোচিত নাম প্রথমা রঙ্গমঞ্চ

কাজী নিয়ামুল ইসলাম:
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় ২০০৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর গড়ে ওঠে ‘প্রথমা রঙ্গমঞ্চ’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এক ডজনেরও বেশি নাটক মঞ্চস্থ করে দলটি। সাংস্কৃতিক কর্মী সালাহ উদ্দিন মাহমুদের প্রচেষ্টায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বেশ সুনাম অর্জন করে প্রথমা রঙ্গমঞ্চ।
প্রথমে সালাহ উদ্দিন মাহমুদের লেখা হাস্যরসাত্মক নাটক দিয়ে শুরু। মহড়া চলে পৌর মার্কেটের ছাদে। নারী নাট্যকর্মী না থাকায় কোন নারী চরিত্র ছিলনা। ২০০৮ সালে কালকিনি শিল্পকলা একাডেমীর বৈশাখী মেলা মঞ্চে সালাহ উদ্দিন মাহমুদের রচনা ও পরিচালনায় ‘মুকুট বাবার মাজার’ নাটক প্রথম মঞ্চস্থ হয়। এরপর সালাহ উদ্দিন মাহমুদের রচনায় কাজী নিয়ামূল ইসলাম, এইচ এম মিলন, জাহিদ হাসান, বি এ কে মামুন, মেহেদী হাসান, মাইনুল ইসলাম ও নাফিজ সিদ্দিকী তপুর পরিচালনায় আ.জ.ম কামালের নির্দেশনায় ‘ঘৃণা নয় ভালোবাসা চাই’, ‘আলোর পথে’,‘ ডিসকো ফকির’,‘ কালচারাল ফ্যামিলি’,‘বোকার হদ্দ’,‘ঘাতক’,‘যুদ্ধাপরাধী’,‘কাপুরুষ’ ও ‘মুক্তি’সহ বেশ কয়েকটি নাটক মঞ্চস্থ হয়।
এছাড়া লিয়াকত আলী লাকীর ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’,সেলিম আল দীনের ‘বাসন’,মমতাজ জামানের ‘মুক্তির জননী’,এস.এম সোলায়মানের‘ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাচাল’,মান্নান হীরার‘ফেরারী নিশান’ ও মলিয়েঁরের ‘পেজগী’ মঞ্চস্থ হয়। ২০১১ সালের জানুয়ারিতে পটুয়াখালীর ভান্ডারিয়ায় ওয়ার্ল্ড ভিশনের আমন্ত্রণে‘ঘাতক’মঞ্চস্থ হয়। একই বছর মার্চ মাসে যশোরে ওয়ার্ল্ড ভিশনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ‘মুক্তি’ নাটক মঞ্চস্থ করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। কিন্তু অভাব দেখা দেয় স্থান ও অর্থের। এগিয়ে আসে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-কালকিনি এডিপি, প্রেসক্লাব,শিল্পকলা একাডেমি,সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ, মো: খালেকুজ্জামান,মো: মনিরুজ্জামান, মসিউর রহমান সবুজ, শহীদ খান ও খায়রুল আলমসহ অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। পূর্ণোদ্যমে এগিয়ে যেতে থাকে প্রথমা রঙ্গমঞ্চ। উপজেলার যেকোন অনুষ্ঠানে নাটক পরিবেশনের জন্য ডাক পরে দলটির।
প্রথমা রঙ্গমঞ্চের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এর পরিচালক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ জানান,‘শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম। আজ একটা অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছি। কালকিনির নাট্যাঙ্গণ তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু এখানে কোন অডিটোরিয়াম নেই। আশা করি সে স্বপ্ন একদিন পূরণ হবে। আমরা থেমে থাকবো না।’